Advertisement
E-Paper

পেনশন তুলতেও কি পোহাতে হবে দুর্ভোগ

বছরের শেষ পর্বে এসে এমন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাতে হবে, ভাবেননি তাঁরা কেউই। নোটের চোটে ব্যাঙ্কে-ব্যাঙ্কে লম্বা লাইনের কথা বিলক্ষণ জানেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে এ বার পেনশনের টাকা এসে পৌঁছচ্ছে। ব্যাঙ্ক থেকে সেই টাকা তুলতে কতটা ভোগান্তি পোহাতে হবে, সে কথা ভেবেই এখন আতঙ্কে প্রবীণেরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০১৬ ০১:০৬
বুধবারই ব্যাঙ্কে খোঁজ নিতে লাইন দেন অনেক প্রবীণ। —নিজস্ব চিত্র।

বুধবারই ব্যাঙ্কে খোঁজ নিতে লাইন দেন অনেক প্রবীণ। —নিজস্ব চিত্র।

বছরের শেষ পর্বে এসে এমন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাতে হবে, ভাবেননি তাঁরা কেউই। নোটের চোটে ব্যাঙ্কে-ব্যাঙ্কে লম্বা লাইনের কথা বিলক্ষণ জানেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে এ বার পেনশনের টাকা এসে পৌঁছচ্ছে। ব্যাঙ্ক থেকে সেই টাকা তুলতে কতটা ভোগান্তি পোহাতে হবে, সে কথা ভেবেই এখন আতঙ্কে প্রবীণেরা।

পেনশনের টাকা জমা পড়েছে কি না, বুধবার মাসের শেষ দিনে তা জানতে ব্যাঙ্কে এসেছিলেন কিছু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। আজ, বৃহস্পতিবার থেকে টাকা তুলতে পারবেন কি না তা জানতে চান ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে। তবে নির্দিষ্ট কোনও আশ্বাস না পেয়েই ফিরতে হয়েছে তাঁদের। আসানসোলের রবীন্দ্রভবন এলাকার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সামনে প্রবীণদের জন্য নির্দিষ্ট লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন মালতিলতা সাউ। তিনি জানান, প্রাক্তন সেনাকর্মী স্বামীর মৃত্যুর পরে তিনি পেনশন পান। গত মাসে সময় মতোই টাকা তুলেছিলেন। এ বার পরিস্থিতি দেখে সংশয় হওয়ায় ব্যাঙ্কে খোঁজ নিতে এসেছেন। মালতিলতা দেবী বলেন, ‘‘ব্যাঙ্ক থেকে জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত তাদের কাছে টাকা আসেনি। তাই বৃহস্পতিবার পাব কি না নিশ্চিত নয়।’’

বুধবার পেনশনের টাকা ব্যাঙ্কে এসে পৌঁছয়নি শুনে হতাশ রাজ্য সরকারি স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুদর্শন চট্টরাজ। মিঠানির এই বাসিন্দা ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের কাছে জেনেছেন, ব্যাঙ্কের তরফে সময় মতো পেনশনের টাকা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। সুদর্শনবাবু বলেন, ‘‘পেনশনের টাকাই ভরসা। চিকিৎসার খরচ থেকে মুদি দোকানের বকেয়া, সবই এর উপরে নির্ভর করে। সময় মতো টাকা না পেলে সমস্যা হবে।’’

একই কথা বলেন চিন্তা তিওয়ারি। আসানসোলের চেলিডাঙা এলাকার বাসিন্দা চিন্তাদেবীর স্বামী পুলিশে চাকরি করতেন। স্বামীর অবর্তমানে এখন তিনিই পেনশনের টাকা তোলেন। শহরের রাধানগর এলাকার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে খোঁজ নিতে এসে এ দিন জানতে পারেন, পেনশনের ব্যাপারে কোনও খবর নেই। তিনি বলেন, ‘‘যৎসামান্য টাকা পাই। সেটাও মাসের প্রথমে না পেলে সমস্যায় পড়ে যাব। কাল আবার আসতে হবে।’’

পাণ্ডবেশ্বর থেকে দুর্গাপুরের মেনগেট এলাকার এক ব্যাঙ্কে এ দিন লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিতে এসেছিলেন ডিএসপি-র এক প্রাক্তন কর্মী। পেনশন পেতে হলে বছরে এক বার ওই সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। নোট বাতিলের পরে ব্যাঙ্কে-ব্যাঙ্কে হুড়োহুড়ির জেরে তা জমা দিয়ে উঠতে পারেননি। কিন্তু এখনও না জমা দিলে বৃহস্পতিবার পেনশন তুলতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে আশঙ্কা করে এ দিন ব্যাঙ্কে এসেছিলেন। সামনের লম্বা লাইন ঠেলে ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করতেই রে-রে করে ওঠেন অনেকে। সার্টিফিকেট দেখিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি। শেষমেশ এক ব্যাঙ্ককর্মীর সহায়তায় ভিতরে যেতে পারলেন। সার্টিফিকেট জমা দিতেই যদি এত ভোগান্তি হয়, পেনশন তুলতে কী হবে, আশঙ্কা ওই বৃদ্ধের।

দুর্গাপুর সার কারখানার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মুরারিমোহন মিত্র, সুভাষরঞ্জন দাসেরা জানান, গত কয়েক মাস ধরে পেনশনের টাকা ব্যাঙ্কে এলে মোবাইলে এসএমএস আসে। মাসের প্রথম দিনে সাধারণত সেটি আসে। এ বারও এসএমএস এলে সুযোগ বুঝে ব্যাঙ্কে যাবেন, জানান তাঁরা।

‘ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন’-এর পক্ষে অচিন্ত্য মুখোপাধ্যায়ের অবশ্য আশ্বাস, ‘‘বয়স্ক গ্রাহকদের প্রতি বিশেষ নজর রাখছেন কর্মীরা। আশা করি, তাঁদের পেনশন তুলতে সমস্যা হবে না।’’

Demonetisation Pensioner
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy