কবি দেবেশ ঠাকুর ‘ভারতবর্ষ’ কবিতায় লিখেছিলেন ‘‘মাঠ দিন দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে/ মাঠটাকে আরও বড় করা দরকার।’’ মাঠ ছোট হয়ে যাওয়ার বিরোধিতা করে বুধবার পথে নামলেন বর্ধমানের ক্রীড়াপ্রেমীরা। দাবি, ঐতিহ্যবাহী অরবিন্দ স্টেডিয়ামের জমিতে আদালত ভবন নির্মাণ করা যাবে না। স্লোগান উঠল, ‘‘স্টেডিয়াম বাঁচাও’’।
বুধবার অরবিন্দ স্টেডিয়াম থেকে কার্জনগেট পর্যন্ত হওয়া প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন ভলিবল ও বাস্কেটবল খেলোয়াড়, ক্রীড়া প্রশিক্ষক ও সংগঠক-সহ ক্রীড়াপ্রেমীরা। অভিযোগ, স্টেডিয়ামের জমিতে নতুন আদালত ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ২৭ জানুয়ারি জেলা বাস্কেটবল ও ভলিবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে জানানো হয়, স্টেডিয়ামের জমিতে আদালতের ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ইতিমধ্যেই উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সংগঠনের অবশ্য জানাচ্ছে, স্টেডিয়ামের জমি আদালতের অধীনে রয়েছে। তবে সেখানে নতুন ভবন হলে দীর্ঘ বছরের থাকা বাস্কেটবল কোর্ট সরে যাবে। ফলে জেলার ক্রীড়া কাঠামো ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই আদালত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্রীড়াপ্রেমীদের মতানৈক্য।
আরও পড়ুন:
অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বনবিহারী যশ বলেন, “প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বর্ধমানের ক্রীড়া মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে এসেছে স্টেডিয়াম। বর্ধমান পুরসভার সহযোগিতা ও ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের উদ্যোগে ধীরে ধীরে এখানে স্টেডিয়ামের উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে। বর্তমানে এখানে তিনটি বাস্কেটবল কোর্ট রয়েছে, প্রতিদিন ২৫০ জনেরও বেশি খেলোয়াড় প্রশিক্ষণ নেন। এই স্টেডিয়াম থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিকস্তরের বহু খেলোয়াড় উঠে এসেছেন।” তাঁর দাবি, “ এই জমিতে আদালতের নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত জেলা ক্রীড়া জগতের কাছে অশনি সংকেত। স্টেডিয়াম উঠে গেলে জেলার খেলাধুলোর অপূরণীয় ক্ষতি হবে। আমরা আদালতের কাছে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছি।”
সংগঠনের সহ সভাপতি উজ্জ্বল প্রামাণিক জানান, বর্ধমানবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে জেলা ভলিবল ও বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন।