বর্ধমান স্টেশনে এক ব্যক্তির থেকে ২৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে বর্ধমান জিআরপি। টাকার হিসাব না দিতে পারায় শুক্রবার ওই যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার তাঁকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়।
ধৃতের নাম তারকনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানা এলাকায় তাঁর বাড়ি। জিআরপি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে ট্রেন থেকে বর্ধমান স্টেশনে নামেন তারক। গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় তাঁকে আটক করে জিআরপি। তল্লাশিতে তাঁর কাছ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা মেলে। টাকার বৈধ কোনও নথিপত্র তারক দেখাতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে। হিসাব বহির্ভূত টাকা বহনের অভিযোগে জেনারেল ডায়েরি নথিভুক্ত করে তাঁকে গ্রেফতার করে জিআরপি। বিষয়টি আয়কর দফতরকেও জানানো হয়।
শনিবার তারককে বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতের হয়ে আইনজীবী কমল দত্ত জামিনের সওয়াল করেন। সওয়ালে তিনি বলেন, “ধৃত আসানসোলের নিয়ামতপুরের একটি চালগদির কর্মচারী। বর্ধমানের বাদামতলায় তাঁদের আরও একটি চালের গদি রয়েছে। নিয়ামতপুর থেকে টাকা বর্ধমানের চালের গদিতে আনা হচ্ছিল। আয়করের সমস্ত নথিপত্র রয়েছে।” তিনি তা আদালতে জমাও করেন। এর পরই আইনজীবী জেনারেল ডায়েরি নথিভুক্ত করে গ্রেফতারি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “জেনারেল ডায়েরি করে এ ভাবে কাউকে গ্রেফতার করা যায় না। ধৃতকে বেল নেওয়ার জন্যও বলা হয়নি। তাঁকে জামিনেও ছেড়ে দেয়নি জিআরপি। এতে ধৃতের মৌলিক অধিকার খর্ব হয়েছে।” সওয়াল শুনে ব্যক্তিগত বন্ডে ধৃতের জামিন মঞ্জুর করেন সিজেএম। জমা করা নথিপত্র পরীক্ষা করে আগামী ১৮ মার্চ আয়কর দফতরকে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে সিজেএম। পাশাপাশি, জেনারেল ডায়েরি নথিভুক্ত করে গ্রেফতার করার জন্য জিআরপির ওসিকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। কেন তারকের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে রিপোর্ট পাঠানো হবে না, তা উত্তর দিতে হবে ওসিকে।