E-Paper

বেসরকারি ছাত্রাবাসের ঘুলঘুলির পাশে পড়ুয়ার দেহ

জাহাঙ্গিরপুরের বেসরকারি ছাত্রাবাসে জেলার বিভিন্ন এলাকার শ’দুয়েক পড়ুয়া থাকে। পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের নিয়ে ওই ছাত্রাবাসের দু’টি ভবন— একটি ছেলেদের, অন্যটি মেয়েদের। পড়ুয়াদের নাম খাতায়-কলমে গঙ্গারামপুরের বিভিন্ন স্কুলে নথিভুক্ত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:১০

—প্রতীকী চিত্র।

বেসরকারি ছাত্রাবাসে দশম শ্রেণির পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে ছাত্রাবাস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠল। সোমবার রাতে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের জাহাঙ্গিরপুর এলাকার ঘটনা। অভিযোগ, ছাত্রাবাসের পিছনে শৌচাগারের সেপটিক ট্যাঙ্কের উপরে মৃত অবস্থায় পড়েছিল জেমিস আলবক্স হোসেন (১৬) নামের ওই পড়ুয়া।

ওই ছাত্রাবাসের সরকারি অনুমোদন আছে কি না জানতে চাওয়ায় ছাত্রাবাসের অন্যতম মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, ‘‘ট্রাস্ট রয়েছে আমাদের। সেই ট্রাস্টের মাধ্যমেই হস্টেল চলে।’’ জেলাশাসক বালসুব্রমনিয়াম টি বলেন, ‘‘ওই হস্টেলের অনুমোদন ছিল কি না, খোঁজ নিয়ে দেখছি। না থাকলে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (গঙ্গারামপুর) শুভতোষ সরকার বলেন, ‘‘অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে তদন্ত শুরু হয়েছে।’’

জাহাঙ্গিরপুরের ওই বেসরকারি ছাত্রাবাসে জেলার বিভিন্ন এলাকার শ’দুয়েক পড়ুয়া থাকে। পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের নিয়ে ওই ছাত্রাবাসের দু’টি ভবন— একটি ছেলেদের, অন্যটি মেয়েদের। পড়ুয়াদের নাম খাতায়-কলমে গঙ্গারামপুরের বিভিন্ন স্কুলে নথিভুক্ত। মৃত পড়ুয়ার বাড়ি তপনের তারাইটে। ছাত্রাবাস কর্তৃপক্ষ জানান, মৃত পড়ুয়া গঙ্গারামপুরের রবীন্দ্রস্মৃতি বিদ্যাপীঠে নথিভুক্ত ছিল। তার ভাই সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া এবং সে-ও ওই ছাত্রাবাসে থাকে। ছাত্রাবাসের অন্যতম মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, ‘‘ঘুলঘুলি দিয়ে বেরোনোর সময় সম্ভবত ঘটনাটি ঘটে। কিন্তু কেন ও এই ভাবে বেরোতে গেল, বুঝতে পারছি না।’’

সূত্রের খবর, ঘটনার রাতে ছাত্রাবাসের ডরমিটরিতে দশম শ্রেণির বেশ কয়েক জন পড়ুয়া ঘুমিয়ে ছিল। রাত ১১টা নাগাদ এক শিক্ষক টহল দিতে এসে দেখেন, ওই পড়ুয়া বিছানায় নেই। শৌচালয়ে গিয়েছে ভেবে প্রথমে বিষয়টাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কিন্তু ঘণ্টাখানেক পরেও সে না ফেরায়, খোঁজ শুরু হয়। এক শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, “খুঁজতে খুঁজতে ছাত্রাবাসের পিছনে গিয়ে দেখা যায়, ওই পড়ুয়া সেপটিক ট্যাঙ্কের উপরে পড়ে রয়েছে। ট্যাঙ্কের ঢাকনা ভেঙে ছেলেটির মাথা নীচে, পা উপরে ছিল।” মৃতের পরিবারের লোকজন জানান, সোমবার মধ্যরাতে তাঁদের ফোনে খবর দেওয়া হয়। মৃতের কাকা আরাবুল সরকার বলেন, “এসে দেখি, ভাইপোকে ছাত্রাবাসের মাঠে শুইয়ে রাখা হয়েছে। ওঁরা বলছেন, ঘটনাটি ঘটে রাত ১১টায়। কিন্তু রাত ২টো পর্যন্ত ওঁরা ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাননি। এই মৃত্যুর জন্য ছাত্রাবাস কর্তৃপক্ষই দায়ী। ওঁদের গাফিলতিতে ছেলেটা মারা গিয়েছে।”

জানা গিয়েছে, ওই শৌচাগারের ঘুলঘুলি স্বাভাবিকের তুলনায় বড় এবং তার ধার ঘেঁষে গিয়েছে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তার। পুলিশের অনুমান, রাতের অন্ধকারে ঘুলঘুলি দিয়ে বেরোনোর সময় তারের স্পর্শ লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সেপটিক ট্যাঙ্কের উপরে পড়ে ওই পড়ুয়া। কেন সে ও ভাবে বেরোতে গিয়েছিল,দেখা হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Death Death Case

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy