Advertisement
E-Paper

‘বাড়ি থেকে বার হবেন না’! ডিজিটাল গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে ব্যবসায়ীর থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়, কাটোয়ায় ধৃত এক

ভিডিয়ো কলের অপর প্রান্তে থাকা পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি নিজেকে মুম্বই পুলিশের অপরাধ দমন শাখার আধিকারিক বলে পরিচয় দেন। ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করার কথা জানান।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ১৯:১৬

— প্রতীকী চিত্র।

ডিজিটাল গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে দফায় দফায় মোট ১৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল। যদিও শেষরক্ষা হল না। শুক্রবার রাতে পুরুলিয়া সাইবার অপরাধ থানার তদন্তকারী দল পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থানার অন্তর্গত ঘোষহাট এলাকায় হানা দিয়ে গ্রেফতার করল ওই চক্রের অন্যতম পান্ডাকে।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির নাম বিমলকুমার পাটোয়ারি। ধৃতকে শনিবার পুরুলিয়া জেলা আদালতে হাজির করিয়ে তাঁকে ৫ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার বলরামপুর থানা এলাকার ছোট ব্যবসায়ী অমলকুমার পালের মোবাইলে ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে একটি অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে ফোন আসে। টেলিফোনে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে কথা বলেন এক ব্যক্তি। তিনি জানান, অমলের আধার নম্বর ব্যবহার করে কয়েক জন কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে বিপুল অঙ্কের টাকা বেআইনি ভাবে লেনদেন করেছে। এই কথা শুনে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন অমল।

অভিযোগ, ওই দিনই অন্য একটি নম্বর থেকে ভিডিয়ো কল করা হয় অমলকে। ভিডিয়ো কলের অপর প্রান্তে থাকা পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি নিজেকে মুম্বই পুলিশের অপরাধ দমন শাখার আধিকারিক বলে পরিচয় দেন। তাঁকে গ্রেফতার করার কথা জানান। বাড়ি থেকে ওই ব্যবসায়ীকে বার হতে নিষেধ করা হয়। বিষয়টি অন্যদের জানালে বিপদ আরও বাড়বে বলেও জানানো হয়। প্রতারকদের কথা মতো তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৬ ফেব্রুয়ারি অমল ১২ লক্ষ ৮০ হাজার ২০০ টাকা পাঠিয়ে দেন। হাতেনাতে গ্রেফতারি এড়াতে আদালতের সিকিউরিটি ডিপোজিট বাবদ আরও ৫ লক্ষ টাকা ওই ব্যবসায়ীর কাছে দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। তা-ও পাঠিয়ে দেন। পরিবারেরই এক সদস্যের পরামর্শে তড়িঘড়ি তিনি থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

তদন্তে নামে পুরুলিয়া সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। প্রতারকদের যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকা পাঠানো হয়েছিল, তার সূত্র ধরে পুলিশ বিমলের সন্ধান পায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের অন্যান্যদের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy