ভোট দেওয়া আর হল না ১০১ বছরের ছপিয়া বিবি শেখের।
২০২৪ সালে লোকসভার সময় তাঁর বাড়িতে এসে ভোট করিয়েছিলেন সরকারি আধিকারিকেরা। তবে এসআইআর পর্বে নাম বাদ যায় তাঁর। ট্রাইবুনালে আবেদন করেন কালনার হাটকালনা পঞ্চায়েতের উত্তর গোয়ারার ছপিয়া বিবি। জানিয়েছিলেন, লাঠিতে ভর দিয়ে, ছেঁচড়ে হলেও ভোট দিতে যাবেন। কিন্তু দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে ট্রাইবুনাল যাঁদের ভোটাধিকার ফিরিয়েছে সেই তালিকায় নাম নেই বৃদ্ধার।
বৃদ্ধার পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার সকালে প্রথমে এলাকার বিএলও, পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর করে তাঁরা জানতে পারেন ছপিয়া ও তাঁর দুই নাতির কেউই ভোট দেওয়ার ছাড়পত্র পাননি।
কালনা শহর থেকে কিলোমিটার আটেক দূর মণ্ডলপাড়া। ভোট উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ফেস্টুন, পতাকায় সেজেছে গ্রাম।
বৃদ্ধার নাতি দুলাল শেখ বলেন, ‘‘শুনানির সময়ে সরকারি আধিকারিকদের নানির (ছপিয়া বিবি) স্বামীর মৃত্যুর শংসাপত্র, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি, বার্ধক্য ভাতার কাগজ, পুরনো দলিল সব জমা দেওয়া হয়। ২০০২ সালের তালিকায় নানির নামও ছিল। কিন্তু ট্রাইবুনাল ছাড়পত্র দেয়নি। পুরো বিষয়টি গণতন্ত্রের মৃত্যু বলে মনে করছি আমরা।’’
ভোট দিতে পারবেন না জেনে মনমরা ছপিয়াও। লাঠিতে ভর দিয়ে শিরদাঁড়া সোজা করে বলেন, ‘‘বহু বছর ভোট দিয়েছি। এ বার হঠাৎ ভোটাধিকার চলে যাবে ভাবতে পারিনি। যতদিন বাঁচব, নিজের ভোটাধিকার ফিরে পেতে লড়ব। মৃত্যু হলেও পরিজনেদের বলে যাব, লড়াই চালিয়ে যেতে।আজ হোক না কাল, জিতবই।’’
কালনা তৃণমূল প্রার্থী দেবপ্রসাদ বাগ বলেন, ‘‘এই ব্যর্থতা নির্বাচনের কমিশনের। শুধু হাটকালনার ওই বৃদ্ধা নন, বহু বৈধ ভোটারই ভোট দিতে পারবেন না।’’ বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি ধনঞ্জয় হালদারের দাবি, ‘‘নিয়ম মেনে এসআইআর হয়েছে। উনি ট্রাইবুনালে গিয়েছেন। সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)