Advertisement
E-Paper

সিদ্দিকুল্লার নালিশে ধৃত দলেরই সাত

এলাকার তৃণমূল বিধায়ক তথা মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এবং দলের ব্লক সভাপতি অপূর্ব চৌধুরীর অনুগামীদের মধ্যে লড়াইয়ের জেরে দিন পাঁচেক ধরেই মঙ্গলকোট অশান্ত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০০:৫৮
সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী

সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী

যত দিন যাচ্ছে, মঙ্গলকোটে ততই বেআব্রু হচ্ছে শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দল।

এলাকার তৃণমূল বিধায়ক তথা মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এবং দলের ব্লক সভাপতি অপূর্ব চৌধুরীর অনুগামীদের মধ্যে লড়াইয়ের জেরে দিন পাঁচেক ধরেই মঙ্গলকোট অশান্ত। তার জেরে এ বার নিজের দলের কিছু কর্মীর বিরুদ্ধেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করলেন সিদ্দিকুল্লা। রবিবার আটঘড়া বাসস্ট্যান্ডে মন্ত্রীর গাড়ি আটকে তৃণমূলের পতাকা হাতে ঝাঁটা নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল। সিদ্দিকুল্লার দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর নামে ‘জিন্দাবাদ’ স্লোগান তুলে দলীয় পতাকা হাতে তাঁর গাড়ি আক্রমণ করা হয়েছে। মন্ত্রীর অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ। ধৃতেরা সকলেই সিদ্দিকুল্লার বিরোধী, অপূর্ব চৌধুরীর অনুগামী হিসাবে এলাকায় পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, কাশেমনগর ফুটবল মাঠে বৈরাগ্যচাঁদের মেলা থেকেই এই সাম্প্রতিক অশান্তির সূত্রপাত। গত সপ্তাহের বুধবার থেকে চলে আসা দুই শিবিরের নানা ঝামেলায় চাকদা, গোতিষ্ঠা থেকে সাত জনকে পুলিশ ধরে। মেলায় ঢুকে মারধর ও দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ ছিল তাঁদের বিরুদ্ধে। শনিবার সকাল থেকে ফের লাখুরিয়ার চাকদা ও আমডোব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বোমাবাজি শুরু হয়। অভিযোগ, দু’টি দোকানে ভাঙচুর ও একটি বাড়িতে আগুন ধরানো হয়। পুলিশ গেলে তাদের গাড়ি লক্ষ করেও বোমা ছোড়া হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ পাঁচ জনকে ধরে। এই দু’টি মামলাই স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পুলিশ দায়ের করেছিল।

দু’টি মামলাতেই বেছে বেছে মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠদেরই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সিদ্দিকুল্লা-শিবির। অনুগামীদের ‘পাশে দাঁড়াতে’ রবিবার কাশেমনগরে যাচ্ছিলেন সিদ্দিকুল্লা। তখনই আটঘড়া বাসস্ট্যান্ডে মন্ত্রীর গাড়ি আটকে তৃণমূলের পতাকা হাতে ঝাঁটা নিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মহিলাদের একাংশ। মন্ত্রীর গাড়ি লক্ষ করে ইট ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। ঘণ্টাখানেক আটকে থাকার পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে সিদ্দিকুল্লা ওই এলাকা থেকে বেরিয়ে যান। এর পরেই মঙ্গলকোট পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মাধ্যক্ষ পূরবী অধিকারী-সহ আট জনের বিরুদ্ধে পূর্ব পরিকল্পিত হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ দায়ের করেন মন্ত্রী। রবিবার রাতেই গ্রেফতার করা হয় টঘড়ার প্রবীর অধিকারী, মল্লিকপুরের লালবাবু শেখ, কল্যাণপুরের সাহাবুল শেখ, সীতাহাটির সুবুর শেখ, গোতিষ্ঠার লালন মাজি, সুদেব মাজি এবং জঙ্গলের গদাধর খানকে। সোমবার কাটোয়া আদালতে তোলা হলে ধৃত সকলেরই জামিন মঞ্জুর করেন এসিজেএম বিশাল মঙ্গোত্রী।

সামনেই পঞ্চায়েত ভোট। তার আগে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে মঙ্গলকোটের বারবার অশান্ত হওয়া তৃণমূল নেতত্বের মাথাব্যথা বাড়াবে, সন্দেহ নেই। দলীয় সূত্রে জানা যায়, সিদ্দিকুল্লা মঙ্গলকোটের বাসিন্দা না হওয়ায় এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের অনেকেই তাঁকে আড়ালে ‘বাইরের লোক’ বলে ডাকেন। সে খবর রয়েছে সিদ্দিকুল্লা-শিবিরের কাছেও। তাই পঞ্চায়েত ভোটের আগে ‘বহিরাগত’ বদনাম ঘোচাতে কাশেমনগরে থেকে সংগঠন মজবুত করার কাজেই সিদ্দিকুল্লা মঙ্গলকোটে আসছেন। তাঁর অনুগামীদের ক্ষোভ, ‘‘যাঁরা মন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন, তাঁদের বাড়িতেই পুলিশি তাণ্ডব চলছে।’’

পুলিশ এই অভিযোগ মানতে নারাজ। ব্লক সভাপতি অপূর্ববাবুর পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘ওঁকে তো উন্নয়ন দেখতে বলা হয়েছে। তা হলে উনি সংগঠনের বিষয়ে মাথা ঘামাচ্ছন কেন?’’ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘‘শত্রুতা করতে উনি পুরনো তৃণমূল কর্মীদের নামে মামলা করেছেন।’’ এ দিনও ফোন তোলেননি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।

Siddiqullah Chowdhury TMC Agitation Group Clash সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী তৃণমূল
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy