রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইস্কো স্টিল প্লান্টের স্কুল বেসরকারিকরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ-বিক্ষোভ হল বার্নপুরে। অভিভাবক ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইস্কোর অধীনস্থ ছ’টি স্কুলের মধ্যে পাঁচটিকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সে জন্য স্কুলগুলিতে নতুন ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং দরপত্রও ডাকা হয়েছে, দাবি তাঁদের। ইস্কো কর্তৃপক্ষের তরফে যদিও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইস্কোর আধুনিকীকরণ প্রকল্পে এলাকায় কর্মসংস্থানের আশা তৈরি হয়েছে। কিন্তু তারই মধ্যে কারখানার অধীনস্থ পাঁচটি স্কুলকে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার খবরে ক্ষুব্ধ তাঁরা। বিষয়টি জানার পরেই অভিভাবকদের একাংশে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। সোমবার বার্নপুর গার্লস হাই স্কুল এবং বার্নপুর বয়েজ় হাই স্কুলের সামনে অভিভাবকেরা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
অভিভাবক ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইস্কো মডেল স্কুল বাদ দিয়ে, সংস্থার আর যে পাঁচটি স্কুল রয়েছে, সব ক’টিই বেসরকারি হাতে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এই স্কুলগুলিতে বাংলা, হিন্দি ও উর্দু মাধ্যমে পড়াশোনা হয়। মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২,২০০। বেসরকারিকরণ হলে এলাকার নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনা বিঘ্নিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি তৃণমূলের অশোক রুদ্র। তাঁর বক্তব্য, ‘‘অস্থায়ী শ্রমিক, টোটোচালক, নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানেরা এখানে পড়ে। ভর্তি বন্ধ করে সে সব ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।আবেদনে সাড়া না মিললে বড় আন্দোলন হবে।” এক অভিভাবক গায়ত্রী শর্মার দাবি, ‘‘আমাদের বাচ্চাদের ভর্তি নিচ্ছে না। স্কুল বেসরকারি হয়ে গেলে কোথায় যাব আমরা? আমাদের দাবি, স্কুল যেমন চলছিল, তেমনই চলুক।”
গোটা বিষয়টি নিয়ে ইস্কো কর্তৃপক্ষের তরফে সোমবার কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)