Advertisement
E-Paper

রাস্তার পাশে ফসলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা

কোথাও রাস্তার ধারে ধানঝাড়া চলছে। কোথাও বা রাস্তার একাংশ ‘দখল’ করে ধান শুকনো হচ্ছে। ধান ঝাড়ার মরসুমে পূর্ব বর্ধমান জুড়ে এমন ছবিই দ্বস্তুর বলে জানান বাসিন্দা থেকে গাড়ির চালক, সকলেই। আর এর জেরে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

সৌমেন দত্ত ও কেদারনাথ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২১ মে ২০১৭ ০২:০৭
বিপত্তি: জেলার নানা এলাকায় এ ভাবেই রাস্তার ধারে ধান ঝাড়া ও শুকনো হয় বলে দাবি প্রশাসনের। —নিজস্ব চিত্র।

বিপত্তি: জেলার নানা এলাকায় এ ভাবেই রাস্তার ধারে ধান ঝাড়া ও শুকনো হয় বলে দাবি প্রশাসনের। —নিজস্ব চিত্র।

কোথাও রাস্তার ধারে ধানঝাড়া চলছে। কোথাও বা রাস্তার একাংশ ‘দখল’ করে ধান শুকনো হচ্ছে। ধান ঝাড়ার মরসুমে পূর্ব বর্ধমান জুড়ে এমন ছবিই দ্বস্তুর বলে জানান বাসিন্দা থেকে গাড়ির চালক, সকলেই। আর এর জেরে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। শুক্রবার রাতে এমনই ভাবে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক্টর দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। মৃত্যু হয় চার জনের। তবে এই পথ-ছবিটা বদলাতে এ বার লাগাতার প্রচার চালানো হবে বলে জেলা প্রশাসনের দাবি।

গাড়ির চালক ও যাত্রীদের দাবি, জেলা জুড়ে এমন ভাবে ধান ঝাড়া হয় গ্রামীণ, রাজ্য সড়ক, এমনকী দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের মতো জাতীয় সড়কের বহু এলাকাতেও। এক যাত্রীর অভিযোগ, ‘‘এক্সপ্রেসওয়েতেও অনেক সময় ধানকাটার যন্ত্র রাস্তার উপরে দাঁড় করিয়ে রেখে ধান ঝাড়াই করতে দেখা যায়। তা ছাড়া রাস্তার দু’পাশ আটকে দেওয়ার দৃশ্যও তো রয়েইছে।’’

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের উপরে পুরষা, পারাজ, গলিগ্রাম, সিমনোড়, বেলগ্রাম, উড়োচটি, বর্ধমান-সিউড়ি ২বি জাতীয় সড়কের বড় চৌমাথা মোড়ে রাস্তার ধারে ধান ঝাড়া ও রাস্তা ‘দখল’ করে ধান শুকোতে দেওয়া হয়। পুলিশ কর্তাদের দাবি, একই রকম সমস্যা রয়েছে এসটিকেকে রোডের উপরে পূর্বস্থলী, আখড়া, ছাতনি, কাটোয়া-মেমারি রোডের কুরচি, কুসুমগ্রাম, মালডাঙা-সহ বেশ কিছু এলাকাতেও।

তবে চাষিদের একটা বড় অংশের দাবি, কালবৈশাখীর ঝড়-জলে খামার ভিজে গিয়েছে। সেখানে ধান ঝাড়ার উপায় নেই। তা ছাড়া খেত থেকে খামারের দূরত্ব বেশি হওয়ায় জন্য খরচে পোষাবে না। তাই রাস্তার ধারে ধান ঝেড়ে সেখান থেকেই তা বিক্রি করে দেওয়া হয়। মন্তেশ্বরের চাষিরা জানান, ধান, তিল, পাটের মত নানা ফসল রাস্তায় শুকানোর কাজ করা হয়। আবার অতিবৃষ্টিতে কর্দমাক্ত জমিতে ট্রাক্টর নামতে না পারলেও ফুটপাথ ব্যবহার করা হয়। চাষিদের এই ‘দাবি’র কথা জানেন জেলা পুলিশের কর্তারাও। এক কর্তার দাবি, ‘‘চলতি বছরে ধানের চরম ক্ষতি হয়েছে। তার উপরে ধান ঝাড়ার জন্য রাস্তা থেকে সরতে বললে সমস্যা আরও বাড়বে। তার চেয়ে, যা হচ্ছে হোক।’’ শুক্রবারের দুর্ঘটনার পরে বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। এমনকী মন্তেশ্বর-মালডাঙা রোডের যে অংশে শুক্রবার দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেই এলাকাতেই মাস ছয়েক আগেও বিপত্তি ঘটে। সেই সময়ে এক মোটরবাইক আরোহীর মৃত্যু হয়। জেলা সভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, “বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে রাস্তার ধারে ধান-ঝাড়াই বা ধান শুকোতে দিলে কী কী বিপদ হতে পারে, তা নিয়ে সচেতনতা প্রচার চালানো হবে।”

Accident
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy