Advertisement
E-Paper

তৃণমূল নেতাদের নিরাপত্তায় জোর

দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়ক বিশ্বনাথ পাড়িয়ালকে মাস ছয়েক আগে সর্বক্ষণের জন্য এক জন নিরাপত্তারক্ষী রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু তিনি নেননি। মঙ্গলবার পুলিশ কমিশনার বৈঠকে জানান, সঙ্গে রক্ষী রাখতে হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০০:০৮

নদিয়ায় বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসকে খুনের ঘটনার পরে নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা বাড়ানোয় জোর দিয়েছে প্রশাসন। পশ্চিম বর্ধমানে ১৬ জনের নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর। তাঁদের মধ্যে জনপ্রতিনিধিরা ছাড়াও রয়েছেন শাসকদলের কয়েকজন নেতা। মঙ্গলবার এ নিয়ে বিধায়কদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মীনারায়ণ মিনা।

দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়ক বিশ্বনাথ পাড়িয়ালকে মাস ছয়েক আগে সর্বক্ষণের জন্য এক জন নিরাপত্তারক্ষী রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু তিনি নেননি। মঙ্গলবার পুলিশ কমিশনার বৈঠকে জানান, সঙ্গে রক্ষী রাখতে হবে। তার পরে বিশ্বনাথবাবুর সঙ্গে থাকছেন এক জন পুলিশকর্মী। গত বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে প্রার্থী হন বিশ্বনাথবাবু। তবে ২০১৭ সালে পুরভোটের আগে থেকে তাঁকে ফের শাসকদলের বৈঠক-প্রচারে দেখা যায়। এখন তৃণমূলের নানা কর্মসূচিতেই থাকেন তিনি। আইএনটিটিইউসি-র জেলা সভাপতিও হয়েছেন।

বিশ্বনাথবাবুকে মোটরবাইক, স্কুটিতে বিভিন্ন এলাকায় যেতে দেখা যায়। তিনি জানান, মাস ছয়েক আগে তাঁকে রক্ষী নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘‘কারও ক্ষতি করি না। ভাল করার চেষ্টা করি। নির্ভয়ে সর্বত্র যেতে পারি। তাই রক্ষী নিতে চাইনি।’’ মঙ্গলবার থেকে অবশ্য তাঁর সঙ্গে এক জন রক্ষী থাকছেন। বিশ্বনাথবাবুর দাবি, পুলিশ কমিশনার বৈঠকে জানিয়েছেন, জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ এসেছে। তাই রক্ষী নিতেই হবে। তিনি বলেন, ‘‘আমার কোনও রক্ষী দরকার বলে মনে করি না। কিন্তু বাধ্য হয়ে রাজি হতে হল।’’

কুলটির বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় অবশ্য রক্ষী নেওয়ার প্রস্তাব মানেননি। তিনি বলেন, ‘‘আমার রক্ষীর প্রয়োজন নেই। কুলটির মানুষই আমার রক্ষাকর্তা।’’ ২০০৬ থেকে টানা তিন বার জিতে বিধায়ক হয়েছেন উজ্জ্বলবাবু। কোনও দিনই তাঁর সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষী দেখা যায়নি। দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মোটরবাইকেই ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় তাঁকে। বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমার এক জন ব্যক্তিগত রক্ষী আছেন। আর রক্ষী দরকার নেই বলে জানিয়েছি।’’

পুলিশের একটি সূত্রে জানা যায়, জেলার ন’জন বিধায়ক, জেলা পরিষদের সভাধিপতি, দুর্গাপুরের মেয়র ছাড়াও শাসকদলের জনা পাঁচেক নেতার নিরাপত্তায় নজরের নির্দেশ রয়েছে। কয়েক জনের নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে। যদি কেউ আরও পুলিশি ব্যবস্থার প্রয়োজন মনে করেন তবে তাঁদের স্থানীয় থানায় জানাতে বলা হয়েছে।

পুলিশের ওই বৈঠক বয়কট করেন দুর্গাপুর পূর্বের সিপিএম বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়। তাঁর অভিযোগ, ‘‘রাজ্যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই। অসামাজিক কাজকর্ম লেগেই আছে। সব মানুষের নিরাপত্তা চাই। তাই শুধু বিশেষ কয়েক জনের নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক আমি বয়কট করেছি।’’ তালিকার কিছু নাম নিয়েও আপত্তি তুলেছেন সন্তোষবাবু। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘তালিকায় শাসক দলের শ্রমিক সংগঠনের নেতার নাম রয়েছে। তাহলে বাকি শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের কি নিরাপত্তার দরকার নেই?’’ তবে তাঁর দাবি, নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা চিন্তিত নন। রানিগঞ্জের সিপিএম বিধায়ক রুনু দত্তও রক্ষী নিতে চাননি বলে জানা গিয়েছে।

তৃণমূলের জেলা সভাপতি ভি শিবদাসনের বক্তব্য, ‘‘আমরা পুলিশের কাছে কোনও প্রস্তাব দিইনি। পুলিশ যদি মনে করে কাউকে নিরাপত্তা দিতে হবে, তা তারা করবে।’’ তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এটা রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের বিষয়।’’ গোটা বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মীনারায়ণ মিনা শুধু বলেন, ‘‘বিধায়কদের নিয়ে রুটিন বৈঠক করা হয়েছে।’’

Secutiry TMC MLA West Bengal Police
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy