E-Paper

জেলা থেকে কি কেউ থাকবেন মন্ত্রিসভায়, চর্চা

বাম আমল ও তৃণমূলের সরকারের আমল, সব সময়েই বর্ধমানের কৃষি এলাকা থেকে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব থেকেছে।

কেদারনাথ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ০৮:২৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে জিতেছেন বিজেপির প্রার্থীরা। শনিবার ব্রিগেডে যে পাঁচ জন মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে পূর্ব বর্ধমান থেকে জয়ী কেউ ছিলেন না। তবে জেলা থেকে কাউকে মন্ত্রী করা হবে, আশা করছেন অনেকেই। সেই সঙ্গে, এ দিন ব্রিগেডে মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়া, বাঁকুড়া জেলা থেকে জয়ী ক্ষুদিরাম টুডু আদতে কয়েক দশক ধরে রয়েছেন বর্ধমানে। এখানেই শিক্ষকতা করেন তিনি। তিনি মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় খুশি পড়শি থেকে সহকর্মীরা।

বাম আমল ও তৃণমূলের সরকারের আমল, সব সময়েই বর্ধমানের কৃষি এলাকা থেকে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব থেকেছে। বাম আমলে নিরুপম সেন শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী ছিলেন। তৃণমূল আমলে স্বপন দেবনাথ ও সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী দীর্ঘদিন মন্ত্রী ছিলেন। এ বার বিজেপি তাদের কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সাতটি কেন্দ্রের সব ক’টিতেই জিতেছে। রাজ্য বিজেপি সূত্রের খবর, ভাল ফলের পুরস্কার হিসাবে মন্ত্রিত্ব মিলতে পারে কোনও বিধায়কের। এ ক্ষেত্রে বেশি চর্চায় রয়েছে মন্তেশ্বরে সিদ্দিকুল্লাকে পরাজিত করা সৈকত পাঁজার নাম। দলে সৈকত শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ২০২১ সালে শুভেন্দুর হাত ধরেই তিনি তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপির একাংশের দাবি, প্রায় ৩৫ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার থাকা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী সিদ্দিকুল্লাকে হারানো সহজ ছিল না।

যদিও এ দিন কলকাতা থেকে ফেরার পথে সৈকত জানান, তিনি মন্ত্রী হচ্ছেন, এমন খবর তাঁর কাছে নেই। বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি স্মৃতিকণা বসু বলেন, ‘‘এ সব বিষয় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ঠিক করেন। এ ব্যাপারে দলের তরফে কিছু এখনও আমাদের জানানো হয়নি।’’

এ দিন ব্রিগেডে মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়া ক্ষুদিরাম টুডু বাঁকুড়ার বারিকুলের বাসিন্দা হলেও, কয়েক দশক ধরে বর্ধমানে শিক্ষকতা করছেন। গত প্রায় দু’দশক তিনি বর্ধমানের বাণীপীঠ স্কুলের বাংলার শিক্ষক। তাঁর স্ত্রী মালতি টুডু হেমব্রম আশাকর্মী। বর্ধমান শহরের কালনা গেটে ভাড়া থাকেন তাঁরা। রায়ান পঞ্চায়েতের নাড়ি বেলবাগান এলাকায় একটি বাড়ি কিনেছেন সম্প্রতি। তিনি মন্ত্রী হওয়ায় খুশি বেলবাগানের বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা অনির্বাণ দে বলেন, ‘‘ক্ষুদিরামবাবুর শীঘ্র এখানে পাকাপাকি চলে আসার কথা ছিল। আমরা অত্যন্ত খুশি।’’

বাণীপীঠ স্কুলের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোপীবল্লভ রায় জানান, ক্ষুদিরামের চেষ্টায় স্কুলে তফসিলি জাতি-জনজাতির হস্টেল তৈরি করা গিয়েছে। মন্ত্রী হয়ে তিনি যে দফতরই পান, শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন, আশা তাঁদের। কালনা গেটে যে বাড়িতে তিনি ভাড়া থাকেন, সেটির মালিক অনিন্দিতা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘উনি অত্যন্ত সজ্জন। খুব ভাল লাগছে।’’

(সহ-প্রতিবেদন: সৌমেন দত্ত)

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy