ওষুধের পরে এ বার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। সম্প্রতি রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি পুরসভায় ‘রৌদ্র-বৃষ্টি’ নামের দোকান তৈরি করে ন্যায্য মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করা হবে। এ বিষয়ে আগেই উদ্যোগী হয়েছে হলদিয়া পুরসভা। এ বার পূর্ব বর্ধমানের সবকটি পুরসভাতেও এ ধরনের দোকান তৈরিতে উদ্যোগী হচ্ছে রাজ্য নগর উন্নয়ন সংস্থা (সুডা)।
বর্ধমান পুরসভা জানায়, জেলাশাসক দফতরের কাছে হকার্স কর্নারে ১৫৫০ বর্গফুট জায়গায় দোকান তৈরি হবে। কাটোয়া, কালনা, মেমারিতেও এ বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে পুরসভাগুলি। কাটোয়ার পুরপ্রধান অমর রাম বলেন, “দ্রুত এ ধরনের দোকান চালু হবে। এই প্রকল্পের দোকান কোথায় করলে লাভজনক হবে, তা নিয়ে একটি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” বর্ধমানের পুরপ্রধান স্বরূপ দত্ত বলেন, “সব ঠিক থাকলে, চলতি মাসে মুখ্যমন্ত্রীর জেলা প্রশাসনিক সভা থেকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে দোকান চালু হতে পারে।”
ঠিক হয়েছে, এই ধরনের দোকানে নামী সংস্থার তৈরির জিনিসপত্র, চাল ইত্যাদি থাকবে। পরিকল্পনা রয়েছে, নানা স্বনির্ভর গোষ্ঠী, ‘মঞ্জুষা’, ‘সুফল বাংলা’, ‘তন্তুজ’ ও মৎস্য দফতরের তৈরি জিনিসপত্র রাখারও। তবে সবই মিলবে ‘সুলভ’ মূল্যে। প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণ সংস্থা (ডব্লিউইসিএসসিই) এই দোকানগুলিতে জিনিসপত্র সরবরাহ করবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন নামী সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছে ডব্লিউইসিএসসিই। তারাই বিভিন্ন পুরসভাকে চিঠি দিয়ে ১৫০০ বর্গ ফুটের ঘর চেয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, “এই উদ্যোগ সফল হলে গ্রামীণ এলাকাতেও তা চালু করা হবে। এতে জিনিসপত্র যেমন সস্তায় মিলবে, তেমনই কর্মসংস্থানও বাড়বে। লাভের কথা ভেবে এই ধরনের দোকান তৈরি হচ্ছে না। তবে উৎপাদকের কাছ থেকে সরাসরি ক্রেতার হাতে পণ্য যাওয়ায় দু’পক্ষই লাভবান হবেন।” খাদ্য দফতরের কর্তাদের আশা, ঠিক জায়গা নির্বাচন ও ব্যবসায়িক মানসিকতা নিয়ে চালাতে পারলে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানের মত এই দোকানগুলিও জনপ্রিয় হবে।