মকর সংক্রান্তির দিন বিকেলে দামোদরে স্নান করতে নেমে মৃত্যু হয়েছে শুভজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮) নামে এক তরুণের। সোমবার পূর্ব বর্ধমানের বুদবুদের রণডিহার ঘটনা। মৃতের বাড়ি আউশগ্রামের অমরারগড়ে। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়না-তদন্তের জন্য দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ দিকে, এলাকাবাসীর একাংশ
দুর্ঘটনার পরে এলাকায় পুলিশের নজরদারির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ অমরারগড় থেকে শুভজিৎ-সহ চার জন তরুণ মোটরবাইকে করে রণডিহায় আসেন। সেখানে ফেরিঘাটের পাশের জায়গায় তাঁরা বসেছিলেন। সেই সময়ে শুভজিতের স্নান করার ইচ্ছা হয়। সেই মতো তিনি জলে নেমে পড়েন। সঙ্গে-সঙ্গেই তিনি তলিয়ে যান। বন্ধুদের চিৎকারে ফেরিঘাটে আশপাশে থাকা লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন। খবর দেওয়া হয় বুদবুদ থানায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জাল ও কাঁটা দিয়ে দেহ উদ্ধারের চেষ্টা করতে থাকেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০ ফুট দূরে দেহটি উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভজিৎ মানকর কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
এ দিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, পিকনিকের মরসুম শুরু হওয়ার পরে এলাকায় পুলিশকর্মী এবং সিভিক ভলান্টিয়ারেরা রয়েছেন। কিন্তু তাঁরা অনেক সময়েই ঠিক ভাবে নজরদারি চালাচ্ছেন না। ফলে, অনেকেই লকগেটের কাছে চলে যাচ্ছেন। এমনকি, লকগেটের নীচেও অনেককে স্নান করতে দেখা যাচ্ছে। অথচ, এটি পুরোপুরি নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছর দুয়েক আগে সেচ দফতর সাধারণ মানুষ যাতে লকগেটের কাছে যেতে না পারেন, সে জন্য লোহার গেট ও তারের জাল দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল। বর্তমানে লোহার গেটটি থাকলেও তারের জাল আর নেই। এমনকি, এক সময় নদে নামার জায়গায় বাঁশ দিয়ে ঘেরা থাকলেও এখন সেই সবও কিছু নেই। এ দিন যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানেও জলে নামা বিপজ্জনক। এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো হোক। এ বিষয়ে আসাসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি (কাঁকসা) সুমনকুমার জসওয়াল বলেন, “আমরা নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছি। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)