গত লোকসভা ভোটে প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে কাটোয়া শহরে বিজেপির থেকে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। পুরপ্রধান বদল হয়। কিন্তু পুর প্রশাসনের মাথা বদলেও পরিষেবা মানের তেমন উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ। সম্প্রতি রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগী হয়েছে পুরসভা। তাতেও শহরবাসীর ক্ষোভ কমেনি। প্রশ্ন উঠছে, এর প্রভাব ভোটেও পড়বে না তো। যদিও তৃণমূল নেতাদের দাবি, পরিষেবা সারা বছর দেওয়া হচ্ছে। কিছু ঘাটতি থাকলে সে দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। জমি শক্ত করতে নেতা, কর্মী সবাই সচেষ্ট, দাবি তাঁদের।
গত লোকসভা ভোটে কাটোয়া পুরসভার ৭৮টি বুথ মধ্যে বিজেপি এগিয়েছিলে ৫৫টি বুথে। তৃণমূল এগিয়েছিল ২৩টি বুথে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটেও শহরের ন’টি ওয়ার্ডে তৃণমূল পিছিয়ে ছিল।
গত নভেম্বরে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের কাজ শুরুর পর থেকেই চাপ বেড়েছে তৃণমূলের। প্রক্রিয়া শুরুর আগেই জেলা তৃণমূলের প্রভাবশালী এক নেতা তথা প্রবীণ বিধায়ক একাধিক কর্মিসভায় বলেন, ‘ঘোষিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব। কিন্তু, এ বার ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে’। দলের একাংশ বলছেন, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের দিকে ইঙ্গিত করেছেন তিনি। আর এক অংশের ব্যাখ্যা, আদতে তিনি নির্বাচন কমিশন এবং সিবিআই-ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে বোঝাতে চেয়েছেন।
মাস খানেক আগে কাটোয়া শহরে রাস্তা উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। টেলিফোন ময়দান, সার্কাস ময়দান থেকে শুরু করে ঘোষহাট, পথশ্রী প্রকল্পে শহর জুড়ে অলি-গলির রাস্তা ঢালাই চলছে। কিন্তু ক্ষোভ কমেনি। এক শহরবাসীর অভিযোগ, ‘‘ট্রেড লাইসেন্স ও বিল্ডিং প্ল্যান নিয়ে হয়রানি কমেনি।’’ আর এক জনের দাবি, ‘‘বাড়ি নির্মাণের পরে কোনও একটি অংশকে অবৈধ বলে নোটিস পাঠিয়ে দেয় পুরসভা। তার পরে পুরসভার উন্নয়ন তহবিলে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করা হয়। এ সবের ফলে গত এক দশকে আরও তীব্র হয়েছে।’’ দলের একাংশের দাবি, এই ক্ষোভের প্রকাশ হয়েছিল লোকসভা ভোটে। তৎকালীন পুরপ্রধান সমীর সাহার ওয়ার্ডেও হারতে হয়েছিল তৃণমূলকে। পরে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে পুরপ্রধান করা হয় কমলাকান্ত চক্রবর্তীকে।
পুুরপ্রধানের দাবি, ‘‘শুধু ভোটের সময়ে নয়, সারা বছরই নাগরিকদের নানা পরিষেবা দিচ্ছি। রাজপথ থেকে গলি, নাগরিকদের দাবি মেনে রাজ্য সরকার প্রতিটি রাস্তার সংস্কার করছে। মানুষ আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন।’’
কাটোয়ার কংগ্রেস নেতা তথা পুরসদস্য রণজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূল ২০১৫-এ সন্ত্রাস করে পুরবোর্ড ছিনিয়ে নেয়। সেই থেকে কাটোয়ায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। অপরিকল্পিত ভাবে রাস্তা উঁচু করায় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।’’ বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি স্মৃতিকণা বসুর মন্তব্য, “তৃণমূলের সন্ত্রাস দেখার পরে কাটোয়া শহরের শান্তিপ্রিয় মানুষ ওদের ত্যাগ করে আমাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তাই গত বিধানসভা ও লোকসভা ভোটে কাটোয়া শহরের বেশির ভাগ ওয়ার্ডে আমরা এগিয়ে ছিলাম। এ বার তৃণমূল সাফ হয়ে যাবে।” সিপিএমের কাটোয়া শহর এরিয়া কমিটির সম্পাদক প্রকাশ সরকার বলেন, “বিজেপি ও তৃণমূল, দু’টি দলই গণতন্ত্র হত্যাকারী। আমাদের প্রতি ফের আস্থা রাখতে শুরু করেছেন মানুষ।” জেলা তৃণমূলের সম্পাদক অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “দশ বছর ধরে পুরসভায় লাগাতার উন্নয়নের কাজ চলছে। বিরোধীদের অপপ্রচার মানুষ বিশ্বাস করে না। আমাদের দলে কোন্দল নেই। বিধানসভায় আমরাই জিতব।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)