জেলার ২৩টি ব্লকের বেশ কয়েকটিতে সভাপতি পরিবর্তনের দাবি ছিল নানা মহল থেকে। শেষ পর্যন্ত পূর্ব বর্ধমান জেলায় চারটি ব্লকে সভাপতি বদল করলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের নানা সূত্রের দাবি, মূলত বিধায়কদের মতামত নিয়েই ব্লক সভাপতি বাছাইয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উচ্চ নেতৃত্ব। নতুন যাঁরা ব্লক সভাপতি হয়েছেন, তাঁরা এলাকায় বিধায়ক-ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। পুরনো যাঁরা পদে রয়ে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কয়েক জন ছাড়া অধিকাংশেরই এলাকার বিধায়কের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল, দাবি তৃণমূল সূত্রের।
পূর্বস্থলী ২ ব্লকে পঞ্চায়েত ভোটের আগে সভাপতি হন নবকুমার কর। তৃণমূল সূত্রের খবর, এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের খাসতালুক এই ব্লক। তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে এলাকায় পরিচিত রাজকুমার পাণ্ডেকে এ বার সভাপতি করা হল। রাজকুমার আবার দলেরই নেতা ইনসান শেখ খুনে অন্যতম অভিযুক্ত। সে মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। তৃণমূলের একটি অংশের দাবি, তাঁকে ব্লক সভাপতি করার বিষয়ে কোনও কোনও পক্ষের আপত্তি ছিল। তবে বুধবার রাতে দল রাজকুমারের নামই ঘোষণা করে ওই পদে। বৃহস্পতিবার রাজকুমার বলেন, “রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক সময়ে চক্রান্তের শিকার হতে হয়। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী, স্বপন দেবনাথ আমার অভিভাবক। দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা ঠিক ভাবে পালন করতে চাই।”
আউশগ্রাম ২ ব্লকে এক সময়ে দলের কার্যকরী সভাপতি ছিলেন বালি কারবারি বলে পরিচিত শেখ আব্দুল লালন। তৃণমূল সূত্রের দাবি, দলের উপদেষ্টা সংস্থার আপত্তিতে তাঁকে কার্যকরী সভাপতি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পঞ্চায়েত ভোটের আগে ব্লকের সভাপতি রামকৃষ্ণ ঘোষের সঙ্গে ‘দূরত্ব’ তৈরি হয় বিধায়ক (আউশগ্রাম) অভেদানন্দ থান্দারের। সেই সময়ে লালনকে সভাপতি পদে চেয়ে অনুরোধের একটি চিঠি (আনন্দবাজার সেটির সত্যতা যাচাই করেনি) ছড়িয়ে পড়ে সমাজ মাধ্যমে। বিধায়ক অবশ্য ওই চিঠির কথা অস্বীকার করেন তখন। ঘটনাচক্রে, দলীয় নেতৃত্ব রামকৃষ্ণকে সরিয়ে লালনকে সভাপতি করল। সিপিএমের অভিযোগ, পঞ্চায়েত ভোটের আগে ওই ব্লকে তাদের কর্মী রাজিবুল শেখ খুনে লালনের নামে অভিযোগ করা হয়েছিল। যদিও পুলিশের দাবি, তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও তথ্য না মেলায় চার্জশিটে লালনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। লালন বলেছেন, “বালি ব্যবসা পারিবারিক। রাজনীতি শুরুর অনেক আগেই ওই ব্যবসা থেকে দূরে সরে এসেছি। মানুষের সেবা করাই এখন উদ্দেশ্য।”
পঞ্চায়েত ভোটের আগে আজিজুর রহমানকে মন্তেশ্বরে ব্লক সভাপতি করা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ জানান সেখানকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। আজিজুরকে সরিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য দল ও উপদেষ্টা সংস্থাকে তিনি জানিয়েছিলেন বলেও দলের নানা সূত্রের দাবি। এলাকায় বিধায়কের ‘অনুগত’ বলে পরিচিত মন্তেশ্বরের মুড়গ্রামের কুমারজিৎ পানকে ব্লক সভাপতি করা হয়েছে বুধবার। মেমারি ২ ব্লকের সভাপতি হরিসাধন ঘোষও বিধায়ক (মন্তেশ্বর) তথা মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তাঁকে সরানোর দাবি তুলেছিল দলের একাংশ। তবে নেতৃত্ব তাঁকেই পদে রেখেছেন। গলসি ২ ব্লকের গোহগ্রাম, সাঁকো, গলসি পঞ্চায়েতে তৃণমূলের ফল খারাপ হয়েছে। ওই ব্লকের সভাপতি সুজন মণ্ডলকে সরিয়ে বিধায়ক নেপাল ঘোড়ুইয়ের পছন্দের শেখ সাবিরুদ্দন আহমেদকে (জয়) সভাপতি
করা হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)