Advertisement
E-Paper

আইফেল টাওয়ার থেকে টেরাকোটা, মণ্ডপে সবই

কলকাতার শহিদ মিনার থেকে পাশের জেলা বাঁকুড়ার টেরাকোটার কাজ— এক সঙ্গে সবেরই স্বাদ খনি অঞ্চলের পুজোয়। জামুড়িয়ার কেন্দা ফুটবল গ্রাউন্ড পুজো কমিটি এ বার মণ্ডপ তৈরি করেছে দক্ষিণ ভারতের একটি মন্দিরের আদলে।

নীলোৎপল রায়চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৫ ০২:৫৩
বাঁ দিকে, জামুড়িয়ার কেন্দা ফুটবল গ্রাউন্ডের পুজো। ডান দিকে, রানিগঞ্জে মহাবীর কোলিয়ারিতে আইফেল টাওয়ারের আদলে মণ্ডপ। ছবি: ওমপ্রকাশ সিংহ।

বাঁ দিকে, জামুড়িয়ার কেন্দা ফুটবল গ্রাউন্ডের পুজো। ডান দিকে, রানিগঞ্জে মহাবীর কোলিয়ারিতে আইফেল টাওয়ারের আদলে মণ্ডপ। ছবি: ওমপ্রকাশ সিংহ।

কলকাতার শহিদ মিনার থেকে পাশের জেলা বাঁকুড়ার টেরাকোটার কাজ— এক সঙ্গে সবেরই স্বাদ খনি অঞ্চলের পুজোয়।

জামুড়িয়ার কেন্দা ফুটবল গ্রাউন্ড পুজো কমিটি এ বার মণ্ডপ তৈরি করেছে দক্ষিণ ভারতের একটি মন্দিরের আদলে। আয়োজক সংস্থার সম্পাদক বিজু বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁরা ২০১২ সালে নির্বাচন বিধি সম্পর্কিত সচেতনতা কর্মসূচি নেওয়ায় মহকুমা স্তরে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। ২০১৩ সালে একই ভাবে দূষণ ও স্বাস্থ্যবিধি এবং ২০১৪-তে শৌচাগার-সহ নানা বিষয় নিয়ে সচেতনতার প্রচারে জোর দেওয়ায় পুলিশ-প্রশাসন পুরস্কৃতি করেছিল।

কিন্তু বিজুবাবুদের আক্ষেপ, এর পরেও পুজোর চার দিন দর্শনার্থীদের সুবিধায় পুলিশ যে রুট ম্যাপ তৈরি করে তাতে কোনও বারই তাঁদের পুজোটির নাম থাকে না। সেই ম্যাপ শেষ হয়ে যায় জামুড়িয়ার চাকদোলায় এসে। অথচ, তাঁদের পুজোটি-সহ কেন্দা ফাঁড়ি এলাকার পাঁচটি আকর্ষণীয় পুজো সেখানে ঠাঁই পায় না বলে খেদ তাঁদের। প্রতি বছর পুজোর আগে প্রশাসন সব ক্লাবের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করে। সেখানে বারবার এই বিষয়টি জানানো হলেও কোনও সমাধান হয়নি বলে জানান তাঁরা। কমিশনারেটের এডিসিপি (সেন্ট্রাল) রাকেশ সিংহের আশ্বাস, ‘‘বৈঠকে ওঁরা এই আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। সামনের বার যাতে এমন না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখা হবে।’’

লোয়ার কেন্দা কোলিয়ারি সর্বজনীনের পুজো এ বার ৪৭ বছরে পা দিল। তাদের মণ্ডপ তৈরি হয়েছে শহিদ মিনারের অনুকরণে। দু’টি ঘোড়ায় টানা রথে সপরিবারে রণংদেহী দেবী। খাসকেন্দা ইস্ট কেন্দার পুজোও বড় বাজেটের। রানিগঞ্জে গির্জাপাড়ার প্রমীলা সঙ্ঘের পুজো ছ’বছরে পা দিল। তাদের সম্পাদক পিয়ালী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই এলাকায় কোনও দুর্গাপুজো হত না। পুরুষেরা অন্য নানা এলাকার পুজোর সঙ্গে যুক্ত থাকতেন। কিন্তু এখানে কোনও পুজো করার ব্যাপারে উদ্যোগ হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘পুজোর সময়ে খুব খারাপ লাগত। তাই এক সময়ে আমরা মহিলারাই উদ্যোগী হয়ে পুজো শুরু করি। এখানে বিশেষ আকর্ষণ, খুদেদের নানা অনুষ্ঠান। চার বার পরিবেশ ও শৃঙ্খলার জন্য নানা পুরস্কারও পেয়েছি আমার।’’ রানিগঞ্জের মহাবীর কোলিয়ারির পুজোয় মণ্ডপ হয়েছে আইফেল টাওয়ারের আদলে।

আসানাসোল পূর্ব ইসমাইলে আমরা সবাই সর্বজনীনের এ বার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ। তাদের মণ্ডপ তৈরি হয়েছে টেরাকোটার আদলে। ভিতরে মূর্তিতেও সেই শৈলীর। পঞ্চমীতে উদ্বোধন করেছেন সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। আয়োজক সংগঠনের সম্পাদক সুদীপ্ত আচার্য বলেন, ‘‘আমরা এ বার মহকুমা তথ্য সংস্কৃতি দফতরের কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ মণ্ডপের পুরস্কার পেয়েছি।’’ আসানসোলের ধর্মপল্লি সর্বজনীনের পুজোও এ বার ৫০ বছর পেরোল। এক কর্মকর্তা জানান, পঞ্চাশ বছর আগে মানুষের চাহিদা মেনে পুজো শুরু হয়েছিল। এখন তা মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy