গ্রন্থাগার থেকে খেলার মাঠ। ল্যাবরেটরি থেকে ক্যান্টিন— সব কিছুরই পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। উচ্চ শিক্ষা দফতরের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের হাতের কাছে পেয়ে এমন দাবিই জানালেন আসানসোলের বিবি কলেজের পড়ুয়ারা।
বুধবার সকালে বিবি কলেজ পরিদর্শনে আসেন ওই স্থায়ী কমিটির তিন সদস্যের একটি দল। তাঁদের সামনেই নানা দাবিদাওয়া, ক্ষোভের কথা জানান পড়ুয়ারা। গলা মেলান শিক্ষকেরাও। দাবিগুলি প্রস্তাব আকারে বিধানসভায় পেশ করার আশ্বাস দেন ওই কমিটির সদস্যেরা।
এ দিন সকালে কলেজে এসে ওই কমিটির সদস্যেরা প্রথমে পরিচালন সমিতির সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁরা জানতে পারেন, বেশ কয়েক বছর ধরে এই কলেজে অধ্যক্ষ নেই। কাজ চালাচ্ছেন একজন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যেরা। পরিচালন সমিতির সঙ্গে বৈঠক শেষে কমিটির সদস্যেরা পড়ুয়াদের সঙ্গে আলাপচারিতা শুরু করেন। তখনই পড়ুয়ারা নানা দাবি জানান।
পড়ুয়ারা জানান, তাঁদের খেলার মাঠটি সংস্কার করানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, মাঠের অসুবিধার কথা কলেজ কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও সেটি সংস্কারের ব্যবস্থা হয়নি। এ ছাড়া কলেজে একটি ব্যায়ামাগার তৈরি করা দরকার বলে তাঁদের দাবি। কমিটির সদস্যদের কাছে সেই আর্জি জানান তাঁরা। পড়ুয়ারা আরও অভিযোগ করেন, কলেজের গ্রন্থাগারটির অবস্থা বিশেষ ভাল নয়। সেখানে বসে ঠিক মতো পড়াশোনা করা যায় না। আরও কিছু উন্নত মানের বই রাখাও প্রয়োজন। কলেজের ল্যাবরেটরির উন্নতিরও প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি করেন পড়ুয়ারা। তাঁরা অভিযোগ করেন, ল্যাবরেটরির অনেক যন্ত্রপাতিই মান্ধাতার আমলের। সেগুলির বদলে নতুন কিছু যন্ত্রপাতি আনা দরকার।
উচ্চ শিক্ষা দফতরের এই কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে পড়ুয়াদের কেউ-কেউ অভিযোগ করেন, অনেক শিক্ষকই ঠিক সময়ে ক্লাসে আসেন না। ফলে, পড়াশোনায় ক্ষতি হয়। কয়েক জন শিক্ষকের তরফেও অবশ্য ছাত্রেরা নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে ওই কমিটির কাছে। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে কমিটির সদস্যেরা জেনেছেন, কলেজে বেশ কয়েকটি শিক্ষাকর্মীর পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। সেই পদে লোক নিয়োগের দাবি তুলেছেন তাঁরা। বৈঠকের শেষে ওই স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান জীবন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। বেশ কিছু অভিযোগ ও দাবিদাওয়া আমাদের কাছে জানানো হয়েছে। আমরা সেগুলি বিধানসভায় প্রস্তাব আকারে রাখব।’’
এ দিন স্থায়ী কমিটির কাছে পড়ুয়াদের জানানো অভিযোগগুলি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অমলেশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরাও এগুলি সমর্থন করে কমিটির কাছে সমাধানের জন্য আবেদন করেছি। তাঁরা কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা সেই মতো কাজ করব।’’ অমলেশবাবু জানান, খেলার মাঠটি সংস্কার করার জন্য ইতিমধ্যে কলেজের তরফে এডিডিএ-র কাছে আবেদন করা হয়েছে। গ্রন্থাগারের জন্য তাঁদের এক জন স্থায়ী লাইব্রেরিয়ান দরকার। উচ্চ শিক্ষা দফতরে অনেক বার সেই আবেদন করেও ফল হয়নি বলে অমলেশবাবু জানান। তবে এই কমিটি ঘুরে যাওয়ার পরে সমস্যা মেটার ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানান।