Advertisement
E-Paper

চাষের জল নিয়ে মন্ত্রীর সামনে ক্ষোভ চাষিদের

কয়েক সপ্তাহ ধরেই চাষের জল না পাওয়া নিয়ে অভিযোগ করছিলেন চাষিরা। সরকার স্থানীয় খাল, বিল, নদী থেকে পাম্পে জল তুলে সুরাহার চেষ্টা করলেও দেরি হয়ে যাওয়ার ক্ষোভ ছিলই। মঙ্গলবার জলসঙ্কটে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু জায়গা দেখে জলসম্পদ মন্ত্রী চলে যেতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন চাষিরা। তাঁদের দাবি, ‘‘এখন জল দেওয়া মানে মরণকালে দুধ-গঙ্গা জল দেওয়া।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০১৫ ০২:২৬
হৈড়গ্রামে সেচপাম্প চালু করার পরে মন্ত্রী ও সভাধিপতি। —নিজস্ব চিত্র।

হৈড়গ্রামে সেচপাম্প চালু করার পরে মন্ত্রী ও সভাধিপতি। —নিজস্ব চিত্র।

কয়েক সপ্তাহ ধরেই চাষের জল না পাওয়া নিয়ে অভিযোগ করছিলেন চাষিরা। সরকার স্থানীয় খাল, বিল, নদী থেকে পাম্পে জল তুলে সুরাহার চেষ্টা করলেও দেরি হয়ে যাওয়ার ক্ষোভ ছিলই। মঙ্গলবার জলসঙ্কটে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু জায়গা দেখে জলসম্পদ মন্ত্রী চলে যেতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন চাষিরা। তাঁদের দাবি, ‘‘এখন জল দেওয়া মানে মরণকালে দুধ-গঙ্গা জল দেওয়া।’’

দিন কয়েক আগে বর্ধমানের সার্কিট হাউসে রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র আমন ধানের মরসুমে জলসঙ্কট নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, দামোদর সেচ ক্যানেলের জল না মেলায় স্থানীয় ভাবে নদী নালা, খাল বিল, রিভার পাম্প, গভীর ও অগভীর নলকূপ ইত্যাদি যেখানে যেমন সুযোগ আছে তা কাজে লাগিয়ে সঙ্কট মেটানোর চেষ্টা করবে প্রশাসন। এ দিন নবস্থা ২ পঞ্চায়েতের হৈড় গ্রাম ও আউশগ্রামের করঞ্জি গ্রামে সেই ব্যবস্থাই দেখতে যান মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র। সঙ্গে ছিলেন জেলা সভাধিপতি ও পঞ্চায়েতের আধিকারিকেরা। হৈড় গ্রামে দেখা যায়, সম্প্রতি চালু হওয়া বিদ্যুৎচালিত একটি নলকূপ থেকে জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জানা যায়, পুজোর আগেই ওই এলাকায় এগ্রি ইরিগেশন বা কৃষি সেচ বিভাগের উদ্যোগে এক গুচ্ছ পাম্প প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে এসেছিল। সম্প্রতি আমনের জল সঙ্কট তীব্র হওয়ায় তড়িঘড়ি বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়েছে। মন্ত্রীর সামনে এ দিন তারই একট পাম্প চালু করে দেওয়া হয়। বর্ধমান ২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি শ্যামল দত্ত বলেন, ‘‘এলাকায় ১০টি পাম্প বসানো হয়েছে। এক একটি পাম্প ৫০ বিঘা করে মোট পাঁচশো বিঘা জমি সেচ সেবিত করবে।’’ যদিও মন্ত্রী চলে যাওয়ার পরেই স্থানীয় কৃষক দিবেন্দ্যু যশ, তিনকড়ি কোনার, প্রভাকর যশেরা দাবি করেন, ‘‘এলাকার প্রায় সমস্ত ধান জমির ফসলই জলাভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এখন জল দিয়েও ধান বাঁচানো যাবে না। এ যেন মরণ কালে দুধ গঙ্গাজল দেওয়া।’’ চাষিরা পাম্প সেটের আশেপাশে শুখা জমি পরিদর্শনের কথা বললেও মন্ত্রী বা বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি কেউই সেমুখো হননি। এরপর মন্ত্রী চলে যান আউশগ্রামের বিল্বগ্রাম পঞ্চায়েতের করুঞ্জি গ্রামে। সেখানে স্থানীয় খড়ি নদী থেকে পাম্পের সাহায্যে জল তুলে কীভাবে চাষের জমিতে দেওয়া হচ্ছে তা দেখেন তিনি। এখানে মন্ত্রীর সামনেই জলের অভাব অভিযোগ নিয়ে চাষিরা সরব হন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মন্ত্রী এবং সভাধিপতি বেরিয়ে পড়েন।

মন্ত্রী বেরিয়ে যেতেই স্থানীয় চাষিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, অনেক দেরিতে প্রশাসনের ঘুম ভেঙেছে। এখন জল দিয়েও কোনও লাভ নেই। কাজি আখতার আলি, বংশি মণ্ডল, আনন্দ ঘোষ, মকর ধারারা বলেন, ‘‘ধানের ফুল শুকিয়ে গিয়েছে। ছড়ায় দানা বাধেনি ধান। তাই এই ধানের গোড়ায় আর জল দিয়ে কোনও সুরাহা হবে না। এই জল মাটিতে চলে যাবে।’’ তাঁদের দাবি, ‘‘এখন জল দিলে গাছ হয়তো সবুজ হবে কিন্তু ধান আর হবে না। যদি প্রশাসন একমাস আগেও ঘোষণা করতো যে ডিভিসির জল মিলবে না, তাহলে পুকুর, নালা, দিঘি থেকে যে ভাবে হোক আমরা ধান বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করতাম।’’

Advertisement

আর করুঞ্জি গ্রামে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘২৯ তারিখ প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলাম জেলায়। তারপর জলসঙ্কট আছে এমন এলাকায় আমন চাষের পরিস্থিতি এবং আমাদের প্রস্তাবিত জল সরবরাহের ব্যবস্থা দেখতে এসেছিলাম। পাম্প সেট চালু করে কোথাও নদী থেকে জল তোলার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোথাও বা তড়িঘড়ি বিদ্যুৎ সংযগ করে শ্যালো পাম্পের মাধ্যমে জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’ তাঁর দাবি, বর্ধমান জেলার ক্ষতিগ্রস্থ পাঁচটি ব্লকেই এই কাজ চলছে। এর পাশাপাশি আমনের ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা আগামি বোরো মরসুমে পুষিয়ে দেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কীভাবে হবে প্রশ্ন উঠলে তিনি নগদে বা কীটনাশক দিয়েও পুষিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরে জানাবেন বলেও মন্ত্রী বলেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy