এ-১০ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজতে গিয়েও ধাক্কা খেতে হচ্ছে আমেরিকাকে। গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিম এশিয়ায় বার বার মুখ পুড়েছে মার্কিন বাহিনীর। সূত্রের খবর, নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে বার করতে তল্লাশি অভিযানে আমেরিকা দু’টি ‘ব্ল্যাকহক’ হেলিকপ্টার নিয়োগ করেছিল। সেগুলিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইরানের সেনা। গুলি খেয়ে কোনও রকমে পালিয়ে বেঁচেছে মার্কিন কপ্টার। কিন্তু ওই বিমানের পাইলটের খোঁজ এখনও মেলেনি।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স ইরান এবং আমেরিকার আধিকারিকদের উল্লেখ করে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পর পর দু’টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। একটিকে গুলি করে নামানো হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে। অন্যটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুয়েতে হরমুজ় প্রণালীর কাছে। এই দু’টি বিমান থেকে দু’জন পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও এক জনের খোঁজ নেই। উদ্ধারকাজ কত দূর, তল্লাশি অভিযান কেমন চলছে, সে বিষয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কোনও মন্তব্য করতে চাননি। জানিয়েছেন, বিষয়টি সংবেদনশীল। তাই প্রকাশ্যে কিছু বলা উচিত হবে না। অন্য দিকে, আমেরিকার নিখোঁজ পাইলটকে তন্ন তন্ন করে খুঁজছে ইরানও। সে দেশের সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, ‘শত্রু’ দেশের পাইলটকে জীবন্ত ধরে আনতে পারলে পুরস্কার মিলবে।
আরও পড়ুন:
রয়টার্সের রিপোর্ট বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে গুলি করে নামানো হয়েছে আমেরিকা এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান। দুই দেশই এই বিমান ধ্বংসের কথা মেনে নিয়েছে। আমেরিকা দ্বিতীয় ধাক্কাটি খেয়েছে কুয়েতে। সেখানে এ-১০ যুদ্ধবিমান ইরানের আক্রমণে ধ্বংস হয়েছে। তবে এই বিমান ভেঙে পড়ার আগে পাইলট বেরিয়ে গিয়েছিলেন। পশ্চিম এশিয়ায় নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজতে দু’টি ‘ব্ল্যাকহক’ কপ্টার পাঠানো হয়েছিল। সেগুলিকে লক্ষ্য করে ইরানের সেনা গুলি চালায়। ফলে কপ্টারগুলি দ্রুত সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। তল্লাশি সম্ভব হয়নি। এই কপ্টারে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের আঘাত কতটা গুরুতর, এখন তা স্পষ্ট নয়। যেখানে এফ-১৫ই বিমানটি ভেঙে পড়েছে, সেই এলাকা ঘিরে রেখেছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী। যে কোনও মূল্যে তারা মার্কিন পাইলটকে জীবন্ত অবস্থায় হেফাজতে নিতে মরিয়া।
ট্রাম্প এবং তাঁর আধিকারিকেরা বার বার দাবি করছেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে তাঁরাই চালকের আসনে। পরিস্থিতি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শীঘ্র যুদ্ধ থেমে যাবে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। জানিয়েছেন, মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার কোনও প্রভাব সমঝোতার আলোচনায় পড়বে না। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। পাকিস্তানে আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার আলোচনায় বসার আর্জি খারিজ করে দিয়েছে ইরান। ফলে আলোচনার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। ৩০০-র বেশি সেনা জখম। অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্প যুদ্ধ শুরু করলেও এখন পরিস্থিতি তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
০৭:০৮
সুযোগ পেলেই চোরাগোপ্তা হামলা! সাবেক পারস্যের হাতে মার খাওয়ার প্রতিশোধ নিচ্ছে ‘নিরীহ’ আরব রাষ্ট্র -
হরমুজ় প্রণালীতে চলল গুলি! ইরান-আমেরিকার মধ্যে বাড়ল উত্তেজনা, সংঘর্ষবিরতিতে কি ইতি? কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
-
আমেরিকার হৃৎস্পন্দন বন্ধের হুঙ্কার, হরমুজ়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ধ্বংসে ‘আত্মঘাতী তিমি’দের নামাচ্ছে ইরান!
-
ইরানের বন্দরে একের পর এক জাহাজে আগুন! লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা ইজ়রায়েলের, পশ্চিম এশিয়ায় আবার সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে
-
‘আমেরিকার সামনে দুই বিকল্প, বলও ওদের কোর্টে’! যুদ্ধ নিয়ে প্রস্তাব ফেরাতেই ট্রাম্পকে বার্তা ইরানের, কোন দিকে ইঙ্গিত