ইঙ্গিত মিলেছিল সপ্তাহ দেড়েক আগেই। শেষ পর্যন্ত সেই পূর্বাভাস মিলে গেল। চিনের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে বৈঠকে বসল পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান। ডিসেম্বরে সৌদি আরবের রিয়াধে বৈঠকের পরে এই প্রথম বার দুই পক্ষ আবার মুখোমুখি হল। বৃহস্পতিবার থেকে চিনের শিনজিয়াং প্রদেশের রাজধানী উরুমকিতে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক স্তরের ওই বৈঠক। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই চিন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন শিনজিয়াঙের বাসিন্দা উইঘুর মুসলিমেরা।
চলতি সপ্তাহে গোড়ায় পাক বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার চিন সফরে গিয়ে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এর পরেই দু’দেশের যৌথ বিবৃতিতে আলোচনার মাধ্যমে ডুরান্ড লাইনের (পাক-আফগান সীমান্ত) সমস্যার সমাধানের কথা বলা হয়েছিল। পাক বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল আফগানিস্তান সম্পর্কে আলোচনায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কার্যকর ভাবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন। গত অক্টোবর থেকে কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবে চার দফা শান্তি আলোচনা হলেও পাক-আফগান সম্পর্কে উত্তেজনার আঁচ কমেনি। গত এক বছরে দফায় দফায় দু’তরফের সংঘর্ষ হয়েছে। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান-সহ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি আফগান তালিবানের একাংশের মদতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালাচ্ছে বলে ইসলামাবাদের অভিযোগ।
আরও পড়ুন:
গত ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নাঙ্গরহর এবং পকতিকা প্রদেশের কয়েকটি জায়গায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছিল পাকিস্তান। সেই হামলায় বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। পাক সেনার দাবি, আফগানিস্তানে সক্রিয় তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তালিবান সেই অভিযোগ উড়িয়ে নিরীহ গ্রামবাসীদের হত্যার অভিযোগ তুলেছে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পর থেকে দফায় দফায় ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় পাক সেনা এবং আফগান বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। আফগান তালিবান জানিয়েছে, তারা প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর। অন্য দিকে, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে স্থল এবং আকাশপথে ডুরান্ড লাইনের ওপারে নতুন করে হামলা শুরু করেছে পাক বাহিনী। সেই অভিযানের নাম ‘অপারেশন গজ়ব লিল হক’। ২৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ ডুরান্ড লাইনের অন্তত ৫৩টি স্থানে এ পর্যন্ত দু’পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। পাক যুদ্ধবিমানের হামলায় ধ্বংস হয়েছে আফগানিস্তানের একাধিক হাসপাতাল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।