দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে আমেরিকার একটি যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামিয়েছে তেহেরান। তাতে দু’জন পাইলট ছিলেন। এক জনকে উদ্ধার করা গেলেও আর এক জনের খোঁজ এখনও পায়নি মার্কিন সেনা। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান জুড়ে ‘শত্রু’ পাইলটকে জীবন্ত ধরে আনার ডাক দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ইরানি সংবাদমাধ্যম এই কাজে পুরস্কারও ঘোষণা করেছে। বলা হচ্ছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওই পাইলটকে যদি জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ইরানি সেনার হাতে তুলে দেওয়া যায়, সেনা উপযুক্ত সম্মান এবং পুরস্কার দেবে।
আরও পড়ুন:
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং নিউ ইয়র্ক টাইম্স জানিয়েছে, ইরানে ভেঙে পড়া বিমানটি এফ-১৫ই। এতে এক জন পাইলট থাকেন। পিছনের আসনে থাকেন এক জন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণকারী অফিসার। সংবাদসংস্থা এপি-র রিপোর্ট বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভেঙে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে পাইলট বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তবে তিনি কী অবস্থায় আছেন, এখনও স্পষ্ট নয়। ওই বিমানের আর এক অফিসারকে উদ্ধার করেছে মার্কিন সেনা। দ্বিতীয় জনের খোঁজ চলছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের কোহ্গিলুয়ে এবং বয়ের-আহমাদ প্রদেশে মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভেঙে পড়ে। এটি দুর্গম পার্বত্য এলাকা। ইরানের সংবাদমাধ্যম এবং টিভি চ্যানেলে এই সমস্ত এলাকার মানুষদের উদ্দেশে বলা হচ্ছে, ‘‘আমেরিকান পাইলটকে খুঁজতে আমাদের সেনাবাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। আপনারা যদি শত্রু দেশের ওই পাইলটকে ধরতে পারেন এবং সেনার হাতে তুলে দেন, অনেক পুরস্কার ও বোনাস পাবেন।’’
কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন পাইলটকে খুঁজে পেলেই গুলি করে দেওয়া হোক। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিবৃতি দিয়ে অনুরোধ করেছে, আমেরিকান পাইলটকে খুঁজে পেলে কেউ যেন তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না-করেন। তাঁকে যেন সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমে আরও দাবি, মার্কিন পাইলটকে খুঁজতে ইরানের ওই দুর্গম এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করেছে। অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন।
হরমুজ় প্রণালীর কাছে আমেরিকার আরও একটি যুদ্ধবিমান এ-১০ গুলি করে নামানো হয়েছে বলে দাবি করছে তেহরান। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের কাছে দুই আমেরিকান আধিকারিক সে কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে সেই বিমানের পাইলট সুরক্ষিত। যদিও সরকারি ভাবে এখনও পর্যন্ত একটি বিমান ভাঙার কথাই স্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন আধিকারিকেরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিখোঁজ পাইলটের খোঁজে তাঁরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। আমেরিকার একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও গুলি করে নামানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। ধ্বংসাবশেষের কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সে সম্পর্কে আমেরিকা এখনও কোনও মন্তব্য করেনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
হরমুজ় প্রণালীতে চলল গুলি! ইরান-আমেরিকার মধ্যে বাড়ল উত্তেজনা, সংঘর্ষবিরতিতে কি ইতি? কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
-
আমেরিকার হৃৎস্পন্দন বন্ধের হুঙ্কার, হরমুজ়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ধ্বংসে ‘আত্মঘাতী তিমি’দের নামাচ্ছে ইরান!
-
ইরানের বন্দরে একের পর এক জাহাজে আগুন! লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা ইজ়রায়েলের, পশ্চিম এশিয়ায় আবার সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে
-
‘আমেরিকার সামনে দুই বিকল্প, বলও ওদের কোর্টে’! যুদ্ধ নিয়ে প্রস্তাব ফেরাতেই ট্রাম্পকে বার্তা ইরানের, কোন দিকে ইঙ্গিত
-
‘আমরা জলদস্যুই’! হরমুজ়ে ইরানি জাহাজের ‘দখল’ প্রসঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশংসা করলেন ট্রাম্প