ক্রিকেট হোক বা ফুটবল, যে কোনও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের সাফল্যের নেপথ্যে প্রশিক্ষকের বিশেষ ভূমিকা থাকে। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী, খেলোয়াড়রা সঠিক ভাবে খেলতে পারেন। ক্রিকেট-ফুটবলই হোক বা, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, লন টেনিস, ব্যাডমিন্টন, রোয়িং, স্প্রিন্টিং, সাঁতার, কুস্তির মতো ছোট বড় সব ধরনের খেলার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষকের চাহিদা রয়েছে। ক্রীড়া প্রশিক্ষক বা স্পোর্টস কোচ হিসাবে কাজ করতে আগ্রহীরা কী ভাবে শুরু করবেন, রইল তার বিশদ তথ্য।
কারা হতে পারেন?
ক্রীড়া প্রশিক্ষক হওয়ার জন্য যে কোনও একটি খেলায় বিশেষ দক্ষতা থাকা চাই। এ ছাড়াও তাঁর স্পোর্টস কোচিং বিষয়ে স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে, যাঁরা শারীরশিক্ষা বিষয়ে ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন, তাঁরাও এই পেশায় যুক্ত হতে পারেন।
কোথায়, কী পড়ানো হয়?
স্পোর্টস কোচিং বিষয়টি ন্যাশনাল স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি-তে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরে পড়ানো হয়ে থাকে। ওই বিষয়ের অধীনে খেলোয়াড়দের শরীরচর্চা, খেলার কৌশল এবং নিয়ম, মানসিক স্বাস্থ্যরক্ষার মতো বিভিন্ন বিষয় শেখানো হয়।
শারীরশিক্ষা বিষয়টি কলকাতা, যাদবপুর, বর্ধমান, বিশ্বভারতী, কল্যাণী, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরে পড়ানো হয়ে থাকে। এ ছাড়াও গভর্নমেন্ট কলেজ অফ ফিজ়িক্যাল এডুকেশন, স্টেট ইনস্টিটিউট অফ ফিজ়িক্যাল এডুকেশন ফর উইমেন-এ সুযোগ রয়েছে এ বিষয়ে পড়াশোনা করার।
এ ছাড়াও নেতাজি সুভাষ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ স্পোর্টস থেকে স্পোর্টস কোচিং বিষয়ে সার্টিফিকেট কোর্স কিংবা ডিপ্লোমা করার সুযোগও পেতে পারেন।
থাকা চাই প্রশিক্ষণের অনুমোদন
ক্রীড়া প্রশিক্ষক হিসাবে কাজ করতে আগ্রহীদের শুধুমাত্র ডিগ্রি থাকলেই চলবে না। সরকারি অনুমোদনও থাকা চাই। এ জন্য তাঁদের স্পোর্টস অথোরিটি অফ ইন্ডিয়া, অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল-এর মতো সংস্থা এবং সংগঠনের থেকে প্রশিক্ষক হওয়ার অনুমোদন অর্জন করতে হবে। অনুমোদন পেলে সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থায় স্পোর্টস কোচ হিসাবে চাকরির সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
চাকরির সুযোগ
স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া, বিভিন্ন রাজ্যের ক্রীড়া দফতর এবং সরকারি স্কুলগুলিতে নিয়মিত ভাবে ক্রীড়া প্রশিক্ষক নিয়োগ করা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও বেসরকারি স্পোর্টস অ্যাকাডেমি, স্কুল, কলেজ, জিম, কোচিং কিংবা ফিটনেস সেন্টারে প্রশিক্ষক হিসাবে কাজের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়াও অনলাইনে প্রশিক্ষক হিসাবে ফ্রিল্যান্সিং করা যায়।
ক্রিকেট হোক বা দাবা, যিনি প্রশিক্ষণ দেবেন, তাঁকে শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। রোজ শারীরিক পরিশ্রম করার মানসিকতাও থাকা দরকার। তবে, এই পেশায় সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।