E-Paper

জনবিশ্বাস-এ জীবনযাত্রা সহজের আশ্বাস

এত দিন গাড়ি চালানোর লাইসেন্সের মেয়াদ ফুরালে তার পর দিন থেকেই, গাড়ি চালানো অপরাধ বলে ধরা হত। এখন থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও ৩০ দিনের বাড়তি সময় মিলবে লাইসেন্স পুনর্নবীকরণের জন্য।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৭

—প্রতীকী চিত্র।

গাড়ি থেকে দূষণ ছড়ালে বা ‘এয়ার-পলিউশন সার্টিফিকেট’ না থাকলে এত দিন তিন মাস পর্যন্ত জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা হত। এখন থেকে প্রথমবারের অপরাধে শুধু জরিমানা দিলেই চলবে। একই ভাবে, গাড়ি থেকে শব্দদূষণ হলেও এত দিন তিন মাস পর্যন্ত জেল ও ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার শাস্তি ছিল। এখন থেকে প্রথমবারের অপরাধে শুধু সতর্ক করেই ছেড়ে দেওয়া হবে। তার পরে ফের অপরাধ করলে জরিমানা দিতে হবে।

এত দিন গাড়ি চালানোর লাইসেন্সের মেয়াদ ফুরালে তার পর দিন থেকেই, গাড়ি চালানো অপরাধ বলে ধরা হত। এখন থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও ৩০ দিনের বাড়তি সময় মিলবে লাইসেন্স পুনর্নবীকরণের জন্য।

দিল্লির পুরসভা আইনে এত দিন একতলা বাড়ির দরজার পাল্লা বাইরের দিকে খুললে জরিমানা দিতে হত। ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভাবে রাস্তার আলো নিভিয়ে ফেললে জরিমানার বিধান ছিল। রাস্তার আলোর বাল্ব ভেঙে ফেললেও জরিমানা ছিল। রাস্তায় আবর্জনা ফেললেও পুর-আইনে জরিমানা দিতে হত। এই সব ক্ষেত্রে জরিমানা দিতে হবে না।

সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করার জন্য বিভিন্ন আইনে জেল বা জরিমানার শাস্তি তুলে দিয়ে বা কমিয়ে মোদী সরকার সংসদে জনবিশ্বাস বিল পাশ করিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, ‘‘এই বিলের মাধ্যমে ৭৯টি কেন্দ্রীয় আইনে ৭৪৮টি ধারা সংশোধন করা হয়েছে। প্রায় হাজার রকম ছোটখাটো অপরাধের সাজা যুক্তিসঙ্গত করা হয়েছে।’’

পীযূষ জানান, গত কাল সংসদে এই বিল পাশের পরে মোদী সরকার সমস্ত মন্ত্রক, দফতরকে পরামর্শ দিয়েছে, এই সমস্ত ধারায় যে সমস্ত বকেয়া মামলা রয়েছে, তা তুলে নিতে। সরকারি দফতরগুলি এ জন্য আদালতে আবেদন জানাতে পারে। সরকারি হিসেবে এই সব ছোটখাটো অপরাধের প্রায় পাঁচ কোটি মামলা দেশের বিভিন্ন আদালতে ঝুলে রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় হাজার খানেক ধারা ও উপধারার ফলে জাতীয় স্তরে বা রাজ্য স্তরে মানুষের হেনস্থা হত। কেন্দ্রীয় সরকার জনগণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির বদলে বিশ্বাস করতে চায়। তাই এই বিল আনা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী শুক্রবার বলেন, ‘‘রাজ্যগুলিকেও ছোট অপরাধে জেল, জরিমানার শাস্তি পর্যালোচনা করতে বার্তা দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার এখনও ৫৭টি ক্ষেত্রে জেলের শাস্তি ও ১৫৮টি ক্ষেত্রে জরিমানার শাস্তি তুলে দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপ করতে কেন্দ্রীয় সরকার তৈরি।’’

সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য, ১৯৭৮ সালের দিল্লি পুলিশ আইনে রাতে শুধু বাড়ির বাইরে থাকাই অপরাধ বা সন্দেহের কারণ হিসেবে দেখা হত। সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে তিন মাস পর্যন্ত জেলের শাস্তি ছিল। সেই অপরাধের ধারাও এত দিনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Jan Vishwas Bill

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy