Advertisement
E-Paper

জল নামেনি এখনও, ত্রাণ শিবিরে চালু অস্থায়ী স্কুল

কেউ দশ দিন, কেউ দু’সপ্তাহ ধরে রয়েছেন ত্রাণ শিবিরে। দু’বেলা দুমুঠো জুটলেও কবে আবার বাড়ি উঠবে, কবে জল নেমে জমির হাল ফিরবে— এ সব ভাবনা পিছু ছাড়ছে না তাঁদের। সঙ্গে রয়েছে খুদে ছেলেমেয়েগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা। খুদেগুলো অবশ্য দিব্যি নিত্যনতুন বন্ধু জুটিয়ে শিবির মাতাচ্ছে। তবে খেলাধুলোর ফাঁকে পড়ার অভ্যেস ধরে রাখতে ত্রাণ শিবিরেই এ বার স্কুল চালু করল প্রশাসন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ অগস্ট ২০১৫ ০০:৫৫
চলছে স্কুল। —নিজস্ব চিত্র।

চলছে স্কুল। —নিজস্ব চিত্র।

কেউ দশ দিন, কেউ দু’সপ্তাহ ধরে রয়েছেন ত্রাণ শিবিরে। দু’বেলা দুমুঠো জুটলেও কবে আবার বাড়ি উঠবে, কবে জল নেমে জমির হাল ফিরবে— এ সব ভাবনা পিছু ছাড়ছে না তাঁদের। সঙ্গে রয়েছে খুদে ছেলেমেয়েগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা। খুদেগুলো অবশ্য দিব্যি নিত্যনতুন বন্ধু জুটিয়ে শিবির মাতাচ্ছে। তবে খেলাধুলোর ফাঁকে পড়ার অভ্যেস ধরে রাখতে ত্রাণ শিবিরেই এ বার স্কুল চালু করল প্রশাসন।

পঞ্চায়েত সমিতির সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বস্থলী ১ ব্লকের ত্রাণ শিবিরগুলির জন্য আপাতত চারটি স্কুল চালু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে সেখানে পড়াশোনা শুরু করেছে নানা বয়সের আড়াইশোর বেশি ছাত্রছাত্রী। পরিস্থিতি দ্রুত না শুধরোলে আরও স্কুল খোলা হবে বলে আশ্বাস প্রশাসনের।

জেলার অন্য জায়গায় জমা জল নেমে গেলেও পূর্বস্থলী ১ ব্লকের চারটি পঞ্চায়েতে এখনও তিরিশটি ত্রাণ শিবির চলছে। তার মধ্যে শ্রীরামপুরেই রয়েছে ২৩টি শিবির। হাঁটু সমান, বা কোমন সমান জল জমে রয়েছে দক্ষিন শ্রীরামপুর, দোলগোবিন্দপুর, বৈরাগীপাড়া, নবপল্লী, গোবর্ধনেরবেড়-সহ বহু এলাকায়। ডুবে রয়েছে অজস্র তাঁত ঘর। সমুদ্রগড়, নাদনঘাট, বগপুর মিলিয়ে রয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। সম্প্রতি জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার শ্রীরামপুর এলাকার কয়েকটি ত্রাণ শিবির এবং নবদ্বীপ স্টেশনের পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন। বিদ্যানগর, চাঁদপুরের কয়েকটি শিবিরে তাঁদের চোখে পড়ে স্কুল ছাত্রছাত্রীদের ঘোরাফেরার দৃশ্য। ত্রাণ শিবিরের মধ্যে কয়েকজনকে কাছে ডেকে জেলাশাসক জানতে চান তারা পড়তে চায় কি না। ছাত্রছাত্রীরা মাথা নেড়ে সম্মতি জানানোর পরে ত্রাণ শিবিরেই অস্থায়ী স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সরকারি আধিকারিকদের বলা হয়, এলাকার শিক্ষকদের ত্রাণ শিবিরে এনে ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর ব্যবস্থা করতে। বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়, পূর্বস্থলী ১ পঞ্চায়েত সমিতিও। মঙ্গলবার সকাল থেকে ব্লক অফিস চত্বর, শ্রীরামপুর ইউনাইটেড উচ্চবিদ্যালয়, সমুদ্রগড় কে,পি,সি বালিকা বিদ্যালয় এবং নবদ্বীপ স্টেশনে চালু করা হয় অস্থায়ী স্কুল। কোথাও গাছতলায় ত্রিপল পেতে আবার কোথাও বাঁশের খুঁটিতে ত্রিপল টাঙিয়ে পড়ার ব্যবস্থা করা হয়। প্রশাসনের দাবি, প্রতিটি স্কুলেই চার থেকে পাঁচ জন স্থানীয় শিক্ষককে পড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার স্কুলগুলি ঘুরেও দেখা যায়, বিভিন্ন ক্লাস ভাগ করে শিক্ষকেরা বাংলা, অঙ্ক, ইংরেজি পড়াচ্ছেন। ত্রাণ শিবির থেকে আসা ছেলেমেয়েদের টিফিনে দেওয়া হচ্ছে বিস্কুট, জল এবং কেক। পড়ার পাশাপাশি ছড়া, গান এবং আবৃত্তিও শেখানো হচ্ছে তাঁদের। ওই স্কুলগুলির শিক্ষক জয়ন্ত দেবনাথ, অরুন দাস, গদাধর বিশ্বাসেরা জানিয়েছেন, ত্রাণ শিবিরে থেকে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও একঘেয়েমি চলে এসেছিল। নতুন স্কুলে এসে ওদের অনেকেই আনন্দে পড়াশোনা করছে। পঞ্চম শ্রেণীর স্বপ্না ওঁরাও, চতুর্থ শ্রেণীর লিমা ওঁরাও, সুবীর রাওদের কথায়, ‘‘জলা জমা কবে স্বাভাবিক হবে জানিনা। আসল স্কুলে যেতে না পারলেও ত্রাণ শিবিরের স্কুল খারাপ লাগছে না।’’

Advertisement

বুধবার ব্লক অফিস চত্বরের স্কুলটি ঘুরে দেখেন এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটীর শিল্প এবং প্রাণিসম্পদ দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। আলাদা আলাদা করে কথা বলেন ছাত্র এবং শিক্ষকদের সঙ্গে। স্বপনবাবু জানান, শ্রীরামপুর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা থেকে জল কিছুটা কমলেও এখনও বাড়ির আশেপাশে প্রচুর জল জমে আছে। জল বের করতে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছু দিন সময় লাগবে। ততদিন পর্যন্ত এই স্কুলগুলি চালিয়ে যাওয়া হবে। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মল্লিক বলেন, ‘‘এই স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। প্রয়োজনে স্কুলের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy