Advertisement
E-Paper

নামেই বহিষ্কৃত, মিটিং-মিছিলে সেই সব মুখ

অভিযোগ উঠলে চাপের মুখে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু তা যে কার্যত লোক দেখানো, আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে দলের কর্মসূচিতে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতাদের যোগদানের হিড়িকেই তা পরিষ্কার। মন্ত্রী মদন মিত্রকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে তৃণমূলের মিছিলে মঙ্গলবার সামিল হয়েছিলেন বহিষ্কৃত নেতা খোকন রুইদাস। বুধবার দলের পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ করলেন আর এক বহিষ্কৃত নেতা অসীম প্রামাণিক। এর আগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুরে কর্মিসভা করতে এলে সেখানেও দেখা গিয়েছিল খোকনবাবুকে। শুধু দুর্গাপুরের এই দুই নেতাই নয়, তৃণমূল থেকে বহিষ্কারের পরেও দলের নাম নিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি নাম জড়িয়েছে জামুড়িয়ার যুব নেতা অলোক দাসের।

সুব্রত সীট

শেষ আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪ ০০:৪৪
বিক্ষোভে অসীম প্রামাণিক। ছবি: বিকাশ মশান।

বিক্ষোভে অসীম প্রামাণিক। ছবি: বিকাশ মশান।

অভিযোগ উঠলে চাপের মুখে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু তা যে কার্যত লোক দেখানো, আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে দলের কর্মসূচিতে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতাদের যোগদানের হিড়িকেই তা পরিষ্কার।

মন্ত্রী মদন মিত্রকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে তৃণমূলের মিছিলে মঙ্গলবার সামিল হয়েছিলেন বহিষ্কৃত নেতা খোকন রুইদাস। বুধবার দলের পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ করলেন আর এক বহিষ্কৃত নেতা অসীম প্রামাণিক। এর আগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুরে কর্মিসভা করতে এলে সেখানেও দেখা গিয়েছিল খোকনবাবুকে। শুধু দুর্গাপুরের এই দুই নেতাই নয়, তৃণমূল থেকে বহিষ্কারের পরেও দলের নাম নিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি নাম জড়িয়েছে জামুড়িয়ার যুব নেতা অলোক দাসের।

এ দিন ফের মুচিপাড়া মোড়ে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল। নেতৃত্ব দেন অসীম প্রামাণিক। ফলে, ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। বিপাকে পড়েন মানুষজন। তৃণমূলের জেলা (শিল্পাঞ্চল) সভাপতি অপূর্ব মুখোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, “এ দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি দলের অনুমোদন না নিয়েই হয়েছে। উদ্যোক্তাদের সতর্ক করা হবে।”

২০১২ সালের ডিসেম্বরে দুর্গাপুরের নমো সগরভাঙায় জয় বালাজি ইস্পাত কারখানায় ঢুকে তত্‌কালীন দুর্গাপুর ৩ ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি অসীমবাবু আধিকারিকদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই রাতেই কারখানার এক আধিকারিক নিজের আবাসনে কয়েক জন মুখ ঢাকা দুষ্কৃতীর হাতে আক্রান্ত হন। কারখানা গোটানোর হুমকি দেন কর্তৃপক্ষ। এর পরপরই বিধাননগরের এক বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অসীমবাবু ও তাঁর সঙ্গীদের আন্দোলনে জেরবার হন। শেষে ২০১৩ সালের ১১ মার্চ দল থেকে বের করে দেওয়া হয় তাঁকে। অথচ, এ দিন দলীয় কর্মসূচি আয়োজনে রীতিমতো মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন তিনি। অসীমবাবুর দাবি, “জেলা নেতৃত্বের কাছে সবুজ সঙ্কেত পেয়েই কর্মসূচির আয়োজন করেছি।” তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বহিষ্কারের পরেও দলের শীর্ষ নেতানেত্রীদের ডাকা কর্মিসভা-সহ নানা অনুষ্ঠানে অসীমবাবুকে দেখা যায়।

তৃণমূলের তত্‌কালীন ২৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি খোকন রুইদাসের বিরুদ্ধে গত জুলাইয়ে দলেরই বিধায়ক তথা এডিডিএ-র চেয়ারম্যান নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সিন্ডিকেট চালানো ও তোলাবাজির অভিযোগ জানান। পরে একটি প্রতারণার অভিযোগে খোকনবাবু গ্রেফতার হন। অক্টোবরে তাঁকে ৬ বছরের জন্য বহিষ্কার করে দল। তার পরেও মঙ্গলবার তাঁকে মুচিপাড়ায় তৃণমূলের মিছিলে দলের দুর্গাপুর ৩ ব্লক সভাপতি সুনীল চট্টোপাধ্যায়ের পাশে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল। জামুড়িয়ার অলোকবাবুর বিরুদ্ধে শ্যাম গোষ্ঠীর কারখানা কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় তাঁকে বহিষ্কার করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তার পরেও তাঁকে দলের যুব কার্যালয়ে বসতে দেখা যায়। মিড-ডে মিল প্রকল্পে লোক নিয়োগ নিয়ে এলাকার একটি স্কুল কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তৃণমূলের একাংশের মতে, দল শাস্তি দেওয়ার পরেও নেতাদের আচরণ বদলাচ্ছে না। তাঁরা আগের মতোই দলে জায়গা পাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, আগের মতোই বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে তাঁদের আচরণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক জেলা স্তরের নেতা বলেন, “এমন লোক দেখানো শাস্তি অর্থহীন।” দলের জেলা (শিল্পাঞ্চল) সভাপতি অপূর্ব মুখোপাধ্যায় অবশ্য বলছেন, “নিজেকে শোধরালে দলে ফেরার দরজা খোলা আছে। দল সবার উপরেই নজর রাখছে।”

asim pramanick meeting subrata sheet durgapur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy