শীত পড়তেই চেনা ছন্দে মাইথন। পর্যটকদের ভিড়, বনভোজনে জমজমাট মাইথন-সহ শিল্পাঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলি। প্রশাসনের উদ্যোগে সাজিয়ে তোলা হয়েছে জায়গাগুলি। তবে এ বার পর্যটকদের জন্য থাকছে বেশ কিছু বিধিনিষেধও।
প্রতি বছরই ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে মাইথনে ভিড় জমাতে শুরু করেন পর্যটকেরা। ২৫ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি ভিড় উপচে পড়ে এখানে। এ বার বাড়তি আকর্ষণ সবুজ দ্বীপ। কিন্তু প্রতি বছরই বনভোজনের সময়ে নানা রকম সমস্যা তৈরি হয়। প্লাস্টিক ও থার্মোকলের আবর্জনায় ভরে ওঠে এলাকা। জোরে মাইক বাজানো হয়। ক্ষতি হয় গাছপালার। তাই এ বছর আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। দুর্গাপুরের বন দফতরের আধিকারিক মিলনকান্তি মণ্ডল জানান, পর্যটনের মরসুমে যে ভাবে পরিবেশ দূষিত হয়, তা খুব উদ্বেগের। তাই এ বার মাইথনের বনাঞ্চলগুলিতে বনভোজনের উপরে বাড়তি নজরদারি চালানো হবে। পর্যটকদের মনোরঞ্জনে কোনও রকম ব্যাঘাত না ঘটিয়েই বনকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রতি বছর এই সময়ে জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে মাইথনে। আসানসোলের মহকুমাশাসক অমিতাভ দাস জানান, পর্যটকদের সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাইথন যেহেতু একটি সুরক্ষিত এলাকা এবং এই সময়ে লক্ষাধিক পর্যটকের ভিড় হয়, তাই সুরক্ষার দিকে বাড়তি নজর রয়েছে। ইতিমধ্যে মাইথন জলাধার দু’পাশে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে ডিভিসি কর্তৃপক্ষের একাধিক বৈঠক হয়েছে। আসানসোল-দুর্গাপুরের এডিসিপি (পশ্চিম) বিশ্বজিৎ মাহাতা বলেন, ‘‘গত বারের তুলনায় এ বার সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কড়া হয়েছে।’’ তিনি জানান, জলাধারের দু’দিকে কয়েক কিলোমিটার দূরে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কয়েকটি জায়গায় পুলিশ চৌকি বসানো হয়েছে।
ডিভিসি-র জনসংযোগ আধিকারিক বিজয় কুমার জানান, তাঁদের তরফে জলাধারে বেশি সংখ্যায় সিআইএসএফ রাখা হচ্ছে। জলাধারের উপরে কোনও যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না। জলাধারের দু’দিক পরিছন্ন রাখতে কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে নিয়োগ করা হয়েছে। ডিভিসি-র নিজস্ব কিছু সুরক্ষিত এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে পর্যটকদের প্রবেশ নিষেধ। সব মিলিয়ে, পর্যটকদের খুশি করার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার দিকেও এ বার বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।