Advertisement
E-Paper

ভাল রাস্তা বা হোটেল নেই, বলছে কালনাই

পর্যটক টানার জন্য নাচ-গান-আঁকা প্রতিযোগিতার আসর বসেছে শহরে। হাজার হাজার কিলোমিটার মোটরবাইক মিছিল করে গ্যাংটকে গিয়েও পর্যটনের প্রচারও হয়েছে। কিন্তু বাদ পড়ে গিয়েছে পর্যটকদের ন্যূনতম সুযোগ সুবিধার দিকটাই। কালনা পর্যটন উৎসব শুরুর দিনে এমনই কথা উঠে এল নেতা থেকে সাধারণ মানুষের মুখে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:৫৮
পর্যটন উৎসবের উদ্বোধনে আদিবাসী নাচ। কালনায় মধুমিতা মজুমদারের তোলা ছবি।

পর্যটন উৎসবের উদ্বোধনে আদিবাসী নাচ। কালনায় মধুমিতা মজুমদারের তোলা ছবি।

পর্যটক টানার জন্য নাচ-গান-আঁকা প্রতিযোগিতার আসর বসেছে শহরে। হাজার হাজার কিলোমিটার মোটরবাইক মিছিল করে গ্যাংটকে গিয়েও পর্যটনের প্রচারও হয়েছে। কিন্তু বাদ পড়ে গিয়েছে পর্যটকদের ন্যূনতম সুযোগ সুবিধার দিকটাই। কালনা পর্যটন উৎসব শুরুর দিনে এমনই কথা উঠে এল নেতা থেকে সাধারণ মানুষের মুখে। কেউ বললেন, শহরের বেশির ভাগ রাস্তায় গাড়িই ঢোকে না তো পর্যটক কীভাবে আসবেন। কেউ আবার বললেন, বিদেশি পর্যটকেরা এসে থাকবেন কোথায়, ভাল হোটেলই তো নেই।

১০৮ শিবমন্দির থেকে প্রতাপেশ্বর মন্দির, লালজি মন্দির, কৃষ্ণচন্দ্র মন্দির, ভবা পাগলার মন্দিরের মতো অজস্র প্রাচীন পুরাকীর্তি ছড়িয়ে রয়েছে এ শহরে। রয়েছে ৫০০ বছরেরও বেশি পুরনো দাঁতনকাঠি তলার মসজিদ, প্রাচীন গির্জা। কিন্তু পর্যটকের ঢল দেখা যায় না বলেও আক্ষেপও এ শহরের মানুষের বহু পুরনো। আফশোস ঘোচাতে বছর তিনেক আগে পর্যটন উৎসবের সূচনা করেন বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু। বুধবার রাজবাড়ি মাঠে উৎসবের উদ্বোধনে হাজির ছিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বসু, ক্ষুদ্র ও কুটির এবং প্রাণিসম্পদ দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, কালিম্পংয়ের বিধায়ক হড়কা বাহাদুর ছেত্রী-সহ অনেকে।

শুরুতেই হড়কা বাহাদুর বলেন, ‘‘আমি পাহাড়ের জনপ্রতিনিধি। পর্যটন শিল্পে দার্জিলিং সারা পৃথিবীর কাছে সমাদৃত। এখানকার মন্দিরগুলি দেখে আমি ইতিহাসের পাতায় চলে গিয়েছিলাম। দার্জিলিঙের মানুষকে নিশ্চয় এখানকার কথা জানাব।’’ তবে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠার জন্য যে ধরনের রাস্তা দরকার এ শহরে তা নেও বলেো জানান তিনি। তাঁর দাবি, পর্যটকেরা এমন রাস্তা পছন্দ করেন না যেখানে এসে তাঁরা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এর সঙ্গেই পর্যটকদের থাকা, খাওয়ার জন্য ভাল হোটেলের দরকার রয়েছে বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে হাজির ব্যবসায়ী সুশীল মিশ্রও জানান, ১০৮ শিব মন্দিরকে গুরুত্ব দিয়েই পর্যটনের প্রচার করতে হবে। কারণ এ ধরনের বৃত্তাকার মন্দির খুব কম রয়েছে। ভাগীরথী ধরে যে পর্যটকেরা শহরে আসেন সেই রাস্তার উন্নয়নের দাবিও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বিদেশিরা দুর্দশাগ্রস্ত রাস্তাঘাটের ছবি ক্যামেরাবন্দি করে নিয়ে যান। এটা ভাল কথা নয়। মঞ্চ থেকে সংস্কারের অভাবে জীর্ণ রাজবাড়িটি দেখান তিনি। বলেন, ‘‘এটি সংস্কার করে ভাল হোটেল করা যায়।’’ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশের অনের প্রাসাদকে এ ভাবে বিলাসবহুল হোটেল বানানো হয়েছে বলেও জানান। কালনা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড স্মল ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি শম্ভু অগ্রবালের মতেও, ভাল হোটেল না থাকাতেই পর্যটকের ভিড় নেই শহরে।

পর্যটন মন্ত্রীও বলেন, ‘‘কালনায় রাস্তার উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। আমি কালনার বিধায়ককে তহবিল থেকে টাকা বরাদ্দ করতে বলব। আর ব্যবসায়ীদের এলাকার স্বার্থে এখানে হোটেল করতে বলব।’’ তাঁর আরও দাবি, ’’যে রাজবাড়িতে হোটেল করার কথা বলা হচ্ছে সেখানকার কাগজ পত্র নিয়ে কেউ হোটেল গড়ার ইচ্ছা জানালে আমরা নো অবজেকশন দিয়ে দেব।’’ সাধারণ মানুষের পরামর্শ নেওয়ার জন্য কমিটি গড়ারও পরামর্শ দেন তিনি। অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া শহরের বহু বাসিন্দারও দাবি, বেআইনি দখলদারিতে শহরের রাস্তা দিন দিন সরু হচ্ছে। পর্যটন উৎসবের আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডুর আশ্বাস, শহরে ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি জলপ্রকল্প গড়ার কাজ চলছে। রাস্তা খুঁড়ে পাইপ বসানোর কাজ চলছে। শীঘ্রই ভাল রাস্তা মিলবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy