Advertisement
E-Paper

শিক্ষাই বন্ধু, বলছে চক-ডাস্টারের মণ্ডপ

শহরে থিম পুজোর রমরমা শুরু হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগেই। দুর্গাপুরে এ বারও তার ব্যতিক্রম নেই। থিমের লড়াইয়ে কে কতটা চমক দিচ্ছে, সে নিয়েই আলোচনা শহর জুড়ে। বছর-বছর নতুন থিম এনে যে ক’টি পুজো দর্শনার্থীদের চমকে দেয়, তার অন্যতম সিটি সেন্টারের বেঙ্গল অম্বুজা এলাকার উর্বশী সর্বজনীন। তাদের এ বারের থিম ‘শিক্ষাই প্রকৃত বন্ধু’। ও দিকে রাতুড়িয়া গ্রামীণ সর্বজনীনের মণ্ডপে থাকছে দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির, হাওড়ায় রেলের প্রধান কার্যালয় ও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের আদলে গড়া মডেল।

অর্পিতা মজুমদার

শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০১৫ ০২:২৩
বেঙ্গল অম্বুজা এলাকায় তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। নিজস্ব চিত্র।

বেঙ্গল অম্বুজা এলাকায় তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। নিজস্ব চিত্র।

শহরে থিম পুজোর রমরমা শুরু হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগেই। দুর্গাপুরে এ বারও তার ব্যতিক্রম নেই। থিমের লড়াইয়ে কে কতটা চমক দিচ্ছে, সে নিয়েই আলোচনা শহর জুড়ে।
বছর-বছর নতুন থিম এনে যে ক’টি পুজো দর্শনার্থীদের চমকে দেয়, তার অন্যতম সিটি সেন্টারের বেঙ্গল অম্বুজা এলাকার উর্বশী সর্বজনীন। তাদের এ বারের থিম ‘শিক্ষাই প্রকৃত বন্ধু’। ও দিকে রাতুড়িয়া গ্রামীণ সর্বজনীনের মণ্ডপে থাকছে দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির, হাওড়ায় রেলের প্রধান কার্যালয় ও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের আদলে গড়া মডেল। আড়রা কালীনগর সর্বজনীন মণ্ডপ গড়ছে কাল্পনিক মন্দিরের আদলে। সব মিলিয়ে শহরের তিন প্রান্তের তিন পুজোয় তিন রকম আবহ পাবেন।
বেঙ্গল অম্বুজা এলাকার উর্বশী সর্বজনীনের পুজো ১২ বছরে পা দিল। এ বার মণ্ডপ জুড়ে শুধু শিক্ষা-সামগ্রী। গত কয়েক বছরে ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে পরিচিত বেড়েছে দুর্গাপুরের। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ বার পুজো উদ্যোক্তারা ‘থিম’ বেছেছেন। তাঁদের মতে, শিক্ষা মানুষকে আলোর পথে নিয়ে যায়। পুজো কমিটির সভাপতি দুলাল মিত্র নিজে বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফার্মেসি কলেজের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষা শুধু সুদিন নয়, আমাদের দুর্দিনেরও বন্ধু। শিক্ষা মূল্যবোধ গড়ে তুলে সুস্থ ও স্বাভাবিক সমাজ গড়তে সাহায্য করে। আমরা তাই পুজোর মাধ্যমে শিক্ষাকে আপন করে নেওয়ার বার্তা দিতে চাই।’’
থিম পরিকল্পনা করেছেন কাঁথির শিল্পী চঞ্চল আচার্য। মণ্ডপ গড়ার দায়িত্বে রয়েছেন মেদিনীপুরের শিল্পী কমল গিরি। প্রায় ৫০ হাজার পেনসিল, ৫০ হাজার কলম, ২০ হাজার রবার, ৫ হাজার স্লেট, ৩০ বস্তা চক, ১৫ হাজার ডাস্টার ও ৪০ হাজার স্কেল দিয়ে কারুকাজ হচ্ছে মণ্ডপে। এ ছাড়াও সর্বশিক্ষা অভিযান, শিশুর হাতে-খড়ি, বিদ্যাসাগরের প্রথম মাইলস্টোন দেখে সংখ্যা চেনা, শান্তিনিকেতন দৃশ্য ইত্যাদি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে যেন কয়েকটি বিশাল বই এবং দোয়াত-কলম দিয়ে গড়া হয়েছে মণ্ডপটি। প্রতিমার বহিরঙ্গেও থাকছে নানা শিক্ষা-সামগ্রী। পুজোর বাজেট প্রায় ২০ লক্ষ টাকা।
বছর পাঁচেক আগে এক বার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এক জমিদার বাড়ির আদলে মণ্ডপ গড়ে নজর কেড়েছিল রাতুড়িয়া গ্রামীণ সর্বজনীন। এ বার মণ্ডপ গড়ে উঠছে দক্ষিণেশ্বরের মন্দির, হাওড়ায় রেলের অফিস ও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল মিলিয়ে বিশেষ এক স্থাপত্যের আদলে। এ বার পুজোর ১১তম বর্ষ। পুজো কমিটির সম্পাদক সমীর বসু জানান, এই পুজোয় গ্রামের সবাই যোগ দেন। নবমীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। পুজোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য, দিনের বেলা প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়ে থাকে।

আড়রা কালীনগর সর্বজনীনের পুজো এ বছর ৩৭ বছরে পা দিল। পুজো পরিচালনা করে মিলন তীর্থ ক্লাব। কাল্পনিক মন্দিরের আদলে বহু মণ্ডপই তৈরি হচ্ছে শহরে। তবে আড়রা-কালীনগরের এই মণ্ডপটির বিশেষত্ব, তা তৈরি হয়েছে পাটকাঠি দিয়ে। পুজো কমিটির সভাপতি সঞ্জিত দেব, সম্পাদক সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের দাবি, এলাকার সব চেয়ে বড় তাঁদের এই পুজো। বাজি পোড়ানো দেখতে কয়েক হাজার দর্শক হয়। আশপাশের শঙ্করপুর, কালীগঞ্জ, টেটিখোলা, গোপালপুর ছাড়াও নানা এলাকার মানুষ উৎসব যোগ দেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy