E-Paper

পেরিয়ে গিয়েছে সময়সীমা, দেশে ফিরবেন কি সুইটিরা

গত ২২ মে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র জানিয়েছিল, দানিশ ও সুইটিদের ১০ দিনের মধ্যে দেশে ফেরানো হবে। তার পরে তাঁদের নাগরিকত্ব বিচার করা হবে। ১৫ দিন পেরোলেও বাংলাদেশেই রয়েছেন দানিশ-সুইটিরা।

দয়াল সেনগুপ্ত 

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ০৮:৪৫

— প্রতীকী চিত্র।

সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকার যে সময়সীমা দিয়েছিল, তা পেরিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে এখনও ফেরানো হয়নি বীরভূমের পরিযায়ী শ্রমিক সুনালী খাতুনের স্বামী দানিশ শেখ এবং তাঁদের পড়শি সুইটি বিবি ও তাঁর দুই নাবালক সন্তানকে। বর্তমান সীমান্ত-পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তা বাড়ছে দুই পরিবারে।

গত ২২ মে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র জানিয়েছিল, দানিশ ও সুইটিদের ১০ দিনের মধ্যে দেশে ফেরানো হবে। তার পরে তাঁদের নাগরিকত্ব বিচার করা হবে। ১৫ দিন পেরোলেও বাংলাদেশেই রয়েছেন দানিশ-সুইটিরা। বীরভূমের পাইকরের দর্জিপাড়ার বাড়ি থেকে সুনালী শনিবার বললেন, “খুব চিন্তা হচ্ছে। বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে বাবার জন্য। কোনও খবর পাইনি।” সুইটি বিবির মামাতো ভাই আমির খানের হতাশা, “জানি না, আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে।”

গত ২ জুন সুনালীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান আইনজীবী ও সিপিএম নেতা সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। তিনি কথা বলেছিলেন সুইটি বিবির মামির সঙ্গেও। ওই পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এ দিন ফোনে সব্যসাচী বলেন, “সে দিন পাইকরে একটি কর্মসূচিতে গিয়েছিলাম। শুনেছিলাম, ওঁরা খুব চিন্তায় আছেন। আমার কাছে ওই মামলার নথিপত্র নেই। তবু সাহায্যের প্রয়োজন হলে, পাশে আছি।”

‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে গত জুনে দিল্লিতে কর্মরত সুনালী, তাঁর নাবালক সন্তান, স্বামী দানিশ, সুইটি ও তাঁর দুই ছেলেকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। পরে অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নাবালক সন্তানকে নিয়ে ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন অন্তঃসত্ত্বা সুনালী। কিন্তু, আসতে দেওয়া হয়নি দানিশ-সুইটিদের। কারণ, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের ভারতীয় বলে মানেনি।

২২ মে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চকে কেন্দ্র জানায়, এই ঘটনায় ‘অন্য রকম পরিস্থিতি’ বিচার করে ১০ দিনের মধ্যে সুইটিদের ভারতে ফেরানো হবে। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশন বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভাড়া বাড়িতে থাকা সুইটি-দানিশদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে খবর নেই। রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি সামিরুল ইসলাম দেখছিলেন পুরো বিষয়টি। এ দিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

India-Bangladesh Border Security Force

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy