Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৬ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

এ রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হতে তৎপর বিজেপি

লোকসভার ভোটে রাজ্যে বিরোধী দল হিসেবে তারা প্রাসঙ্গিক হয়েছিল। এ বার প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠতে বিজেপি আপ্রাণ চেষ্টা শুরু করেছে।বিজেপি নেতাদের

নিজস্ব প্রতিবেদন
০৭ জুলাই ২০১৪ ০৩:৪৬
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

লোকসভার ভোটে রাজ্যে বিরোধী দল হিসেবে তারা প্রাসঙ্গিক হয়েছিল। এ বার প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠতে বিজেপি আপ্রাণ চেষ্টা শুরু করেছে।

বিজেপি নেতাদের দাবি, কংগ্রেস-সিপিএম নয়, রাজ্যে তাঁদের দলের নেতা-কর্মীরাই তৃণমূলের নিশানা হচ্ছেন। কারণ রাজ্যে এখন তাঁরাই প্রধান বিরোধী। বামনগাছিতে সৌরভ চৌধুরীর খুনের মতো ঘটনায় তাঁরা ঘটনাস্থলে প্রতিবাদে যে ভাবে সরব হচ্ছেন, তাতে স্পষ্ট, বিজেপি এ রাজ্যে প্রধান বিরোধীর জায়গা দখল করতে মরিয়া। আজ, সোমবার সংসদের বাজেট অধিবেশনে তাপস পালের অশ্লীল মন্তব্য নিয়ে স্পিকার কী করেন, সেদিকেও লক্ষ্য রাখছে বিজেপি।

সৌরভ-হত্যা-সহ রাজ্যে যে সন্ত্রাস চলছে, তা নিয়ে বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সঙ্গে কথা বলেছেন বাবুল সুপ্রিয়। তাঁর বক্তব্য, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল বিরোধী কর্মীরা খুন হচ্ছে। কী ভাবে সংসদে এ সব ঘটনা তুলে ধরা যায়, তা নিয়ে কৌশল তৈরি করতে কথা বলব।” বিজেপি সংসদীয় দলের বৈঠকে এ নিয়ে কথা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী শাহনওয়াজ হুসেনও কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে এসে সৌরভ খুনের বিষয়ে বলেন, “এ রাজ্যে বিজেপিকেই প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছে তৃণমূল। তাই, আমাদের কর্মী-সমর্থকদের খুন করছে ওরা।”

Advertisement

শাহনওয়াজের বক্তব্যের সূত্রেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহের অভিযোগ, তৃণমূলের যাবতীয় অন্যায়ের মোকাবিলা একমাত্র বিজেপি করছে বলেই বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের কর্মীদের খুন, বাড়ি ভাঙচুর, এলাকা ছাড়া করছে তৃণমূল। সৌরভের খুনের নিন্দা করে তিনি বলেন, “সৌরভের বাবা-মা দু’জনেই বিজেপি-র সক্রিয় কর্মী। তাই তাঁদের সন্তান শাসক দলের আশ্রিত দুষ্কৃতীর শিকার হয়েছেন।”

তাঁদের নেতা-কর্মীরাই যে শাসক দলের লক্ষ, তা জানাতে বিজেপি আরও দু’টি ঘটনার উল্লেখ করেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরির বারাতলা গ্রামের, অন্যটি উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির। বারাতলায় তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত বিজেপি কর্মী নারায়ণ পাত্রের বাড়িতে যান জেলা সম্পাদক সুকুমার দাস-সহ দলীয় সদস্যরা। বিজেপির অভিযোগ, গ্রামে ঢোকার মুখে তৃণমূল আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী তাঁদের উদ্দেশে কটূক্তি করে। তারা সুকুমারবাবুদের গাড়ি ভাঙার চেষ্টা করে। পুলিশ গেলে দুষ্কৃতীরা পালায়। দুপুরেই সন্দেশখালিতে বিজেপির অঞ্চল সভাপতি মনোরঞ্জন সর্দারের বাড়িতে লুঠ, ভাঙচুর করে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। জেলিয়াখালি গ্রামের বাসিন্দা মনোরঞ্জনবাবুর বাড়িতে হামলায় বাধা দিলে তাঁর স্ত্রী সুমিতা সর্দারকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। আহত অবস্থায় তিনি খুলনা হাসপাতালে ভর্তি। তৃণমূলের দাবি, পারিবারিক বিবাদের জেরেই ওই ঘটনা।

এই ধরনের ঘটনার পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তৃণমূলকে তুলোধোনা করছে বিজেপি। ভোটের পরে সন্দেশখালিতে কর্মীরা আক্রান্ত হন। বিজেপি নেতাদের তির তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধেই। ওই ঘটনায় বিজেপি-র ১৩ জন কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। বিষয়টি যে তাঁরা হাল্কা ভাবে নেননি তা বোঝা গিয়েছে দিল্লি থেকে দলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মুখপাত্র মুখতার আব্বাস নকভির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় দল সন্দেশখালিতে এসেছিল। ইলমবাজারে রহিম শেখ খুনের পরে দলের সাংসদ বলবীর পুঞ্জ, কীর্তি আজাদের নেতৃত্বে বিজেপি কেন্দ্রীয় দল পাঠায়। ফলে দলের কর্মী খুন বা আক্রান্ত হলে বিজেপি নেতৃত্ব যে তাঁদের পাশে আছেন তা বোঝাতেই এ ভাবে কেন্দ্রীয় দল রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে। এতে কর্মীদেরও মনোবল বাড়ছে বলে রাজ্য নেতৃত্বের দাবি।

সৌরভের মৃত্যুতে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় দলের আসার ব্যাপারটি উড়িয়ে দেননি রাহুলবাবু। তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে দিল্লিকে জানিয়েছি।” এ দিন তিনি বামনগাছিতে গিয়ে যা রিপোর্ট পেয়েছেন তা লিখিত ভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আজ, সোমবার জানাবেন রাহুলবাবু।



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement