তৃণমূলের পুরপ্রধান বা কাউন্সিলরদের বিজেপি-তে যোগদান না করিয়েও পুর পরিষেবার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করল বিজেপি। অন্য দিকে, তৃণমূলের কাউন্সিলরেরাও গা ঘামানো শুরু করে দিয়েছেন নিজেদের এলাকার পরিস্থিতি অনুযায়ী। বিভিন্ন পুরসভার পুরপ্রধান এবং কাউন্সিলরদের ফোন করে বা তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করে বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়করা পুর পরিষেবা সংক্রান্ত নির্দেশ দিতে শুরু করেছেন। অন্য দিকে, তৃণমূলের নেতারাও ইতিবাচক হিসাবে গ্রহণ করছেন সে সব সমীকরণ।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিজেপির নির্দেশ অনুযায়ীই কাজ হচ্ছে। বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষ কয়েক দিন আগে নিজের এলাকার দু’টি ওয়ার্ডে ডাস্টবিনে আবর্জনার স্তূপ উপচে পড়তে দেখেন। দেখেই তিনি সংশ্লিষ্ট দু’টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে সেগুলি সাফ করানোর নির্দেশ দেন। সে দিন বিকেলের মধ্যেই কাউন্সিলররা সে কাজ করিয়ে দেন।
দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারপার্সন কস্তুরী চৌধুরীর সঙ্গেও ইতিমধ্যেই বৈঠক করেছেন তিন বিজেপি বিধায়ক। দমদম, বিধাননগর এবং রাজারহাট গোপালপুর— এই তিন বিধানসভা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে দক্ষিণ দমদম পুরসভা। তিন বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং তরুণজ্যোতি তিওয়ারি কয়েক দিন আগে বৈঠক করেছেন কস্তুরীর সঙ্গে। ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে কস্তুরী পুরসভায় যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তরুণজ্যোতি নিজের উদ্যোগে কস্তুরীকে পুরসভায় নিয়ে যান বলে বিজেপি সূত্রের দাবি। সেখানে তিন বিধায়ক তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। পুর পরিষেবা মসৃণ রাখার বিষয়ে কথা হয়। বিধায়কদের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই আপাতত পুরপ্রধান কাজ করছেন বলে খবর।
বনগাঁতেও একই ছবি। সে পুরসভার একমাত্র বিজেপি কাউন্সিলর দেবদাস মণ্ডল এ বার হাবড়া থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছেন। দেবদাস কয়েক দিন আগে বনগাঁ পুরসভায় গিয়ে পুরপ্রধানের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনিও পুর পরিষেবা মসৃণ রাখার বিষয়ে কথা বলে এসেছেন। কাজ করতে গিয়ে কোনও সমস্যা হলে তাঁকে জানাতে বলেছেন দেবদাস। প্রশাসন তথা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তিনি বনগাঁ শহরের পুর পরিষেবা মসৃণ রাখতে সক্রিয় থাকবেন বলে দেবদাস আশ্বাস দিয়ে এসেছেন।