E-Paper

মহিলারা-সহ শহুরে বাঙালির ভোট পাওয়ার আশায় বিজেপি

২০১৯ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভোটপ্রাপ্তির হিসাব ৩৮-৪০ শতাংশের কাছাকাছি। গত লোকসভার আসনপ্রাপ্তি তার আগের লোকসভার তুলনায় কম হলেও ভোটব্যাঙ্কে ধস নামেনি। বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, ‘‘দলের গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক অটুট। উপরন্তু শিক্ষিত শহুরে ভোটারেরা বিজেপির সমর্থনে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬ ০৭:৫৯

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

শহর কলকাতা ও তার উপকণ্ঠে তাদের জনসমর্থন ক্রমশ বাড়ছে বলে দাবি বিজেপির। পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা ভোটে মহিলা ভোটারদেরও পাশে পাওয়া যাবে বলে আশা রয়েছে তাদের। ফলে শহর ও শহরতলিতে আসন জেতার স্বপ্ন দেখছেন গেরুয়া নেতৃত্ব।

২০১৯ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভোটপ্রাপ্তির হিসাব ৩৮-৪০ শতাংশের কাছাকাছি। গত লোকসভার আসনপ্রাপ্তি তার আগের লোকসভার তুলনায় কম হলেও ভোটব্যাঙ্কে ধস নামেনি। বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, ‘‘দলের গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক অটুট। উপরন্তু শিক্ষিত শহুরে ভোটারেরা বিজেপির সমর্থনে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।’’ দলের বিশ্লেষণ, শহরের অ-বাংলাভাষী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বিজেপির প্রভাব আগে থেকেই ছিল। এখন শিক্ষিত বাঙালি ভোটারেরাও তৃণমূলকে হটাতে বিজেপিকে বিকল্প হিসেবে ভোট দেওয়ার পক্ষে। বিজেপির ওই নেতার কথায়, ‘‘বাম-মনস্করা মনে করছেন, তৃণমূলকে হটাতে বিজেপিকে ভোট দেওয়া প্রয়োজন।’’ বিজেপির দাবি, তৃণমূলের মাত্রাছাড়া সংখ্যালঘু-তোষণে শহরের হিন্দু বাঙালিদের কাছে বিকল্প হয়ে উঠেছে বিজেপি। পাল্টা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, শুধু শহুরে ভোটারেরা নন, গোটা রাজ্যের মানুষই যে তৃণমূলের পক্ষে রয়েছেন, তা ভোটের পরেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।

শহরে তাদের প্রতি আস্থাশীল ভোটারদের মধ্যে মহিলাদের একটি বড় অংশ রয়েছেন বলেই মনে করছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তৃণমূল যেখানে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এ টাকা বাড়িয়ে মহিলাদের ভোট নিশ্চিত করতে চাইছে, তখন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বলছেন, লক্ষ্মীর ভান্ডারের ধাঁচে বিজেপিও মহিলাদের মাসিক অর্থসাহায্য দেবে। ক্ষমতায় এলে গোটা দেশের মতো এ রাজ্যেও ‘লাখপতি দিদি’ যোজনা বাস্তবায়িত করা হবে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, বাংলার মানুষকেই বেছে নিতে হবে, তাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডারের সামান্য অর্থে সন্তুষ্ট থাকবেন, না কি লাখপতি দিদি হবেন। তা ছাড়া বিজেপি মনে করছে, আর জি কর, সন্দেশখালির মতো ঘটনা মহিলাদের মধ্যে তৃণমূল শাসন সম্পর্কে ত্রাসের সঞ্চার করেছে, যা ভোটবাক্সে তাদের বিপক্ষেই যাবে।

বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্যে সে ভাবে কিছুই জোটেনি। বঙ্গ সফরে এসে একাধিক ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী সপ্তাহের শেষে ব্রিগেডের সভা থেকে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গে দলকে আরও গতি দেবে বলে আশা বিজেপি নেতাদের।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP Assembly Election

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy