উত্তরপ্রদেশের সাফল্যে অক্সিজেন পেয়ে অমিত শাহরা যখন বাংলায় সংগঠন বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছেন, তখন মোকাবিলার মন্ত্র দিতে দু’দিন আগে দলের নেতাদের বৈঠকে ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পই পই করে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, বাংলার রাজনীতিতে জমি আগলে রাখতে কী কী করতে হবে! বিজেপিকে পাল্টা নিশানা করতে সোমবার প্রকাশ্যে ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিলেন মমতা।
এ দিন খড়্গপুরে প্রশাসনিক সভা ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই সভা থেকেই মমতা অভিযোগ করেন, বাংলাকে যেন তেন প্রকারে টার্গেট করছে বিজেপি! একদিকে আর্থিক ভাবে রাজ্যের সঙ্গে বঞ্চনা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক অবরোধ করে তৃণমূল সরকারকে প্যাঁচে ফেলতে চাইছে কেন্দ্র। পাশাপাশি চলছে, ‘ধমকানো, চমকানো।’ সেই সঙ্গে বিজেপি ও আরএসএস বাংলায় বিভাজনের বিষ ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ তৃণমূলনেত্রীর।
আরও পড়ুন: কেন্দ্রে ফোঁস করার কৌশল তৃণমূলের
যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর নাম একবারও মুখে আনেননি মমতা। তবে বলেন, ‘‘ওঁরা বলছে টাকা দিয়ে এখানে ভোট করাবে। কত টাকা তোমার আছে দেখব! এটা রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের জায়গা। উনি বলেছিলেন টাকা মাটি-মাটি টাকা। দেখবে এক্কেবারে ফাঁকা হয়ে যাবে। গোটা দেশ থেকেই ফাঁকা হয়ে যাবে।’’ একই প্রসঙ্গে বিজেপিকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, ‘‘কাজ নেই কম্ম নেই, খালি হুমকি দেওয়া চলছে। কিন্তু শুনে রাখুন চমকে ধমকে বাংলায় কিছু হবে না।’’
খড়্গপুরে এ দিন মমতা যেমন সভা করেন, তেমনই তাঁর খাস এলাকা দক্ষিণ কলকাতায় সোমবার বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে মিছিল করে যুব কংগ্রেস। তবে তাৎপর্যপূর্ণ হল, সম্প্রতি এ ধরনের মিছিলে যেমন সারদা বা নারদ কাণ্ডে বিজেপি-র বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল এ দিন করেনি। বরং মিছিলের মূল স্লোগান ছিল, রাজ্যের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের ‘আর্থিক বঞ্চনাকে’ ঘিরে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীও বলেন, ‘‘কোনও রাজ্য বিজেপি করলে (সমর্থন) স্পেশাল প্যাকেজ। আর বিজেপি না-করলে তার টাকা কেটে নেওয়া। এই বৈষম্য কেন আমরা জানতে চাই।” ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের টাকা কেন্দ্র কেন আটকে রেখেছে এ প্রসঙ্গে সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।