Advertisement
E-Paper

মহুয়াকে জবাব দিতে আবার সমাজমাধ্যমে কেয়া-কাকলি! বিজেপি নেত্রীর কটাক্ষ-পোস্ট শেয়ার এনসিপিআই সাংসদের

ঘটনার সূত্রপাত সংসদ ভবন চত্বরে। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সংসদ ভবনে ঢুকছিলেন। সংবাদমাধ্যম তাঁদের ঘিরে ধরে এবং সংসদে হাজির হাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চায়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ২২:২৯
(বাঁ দিকে) কেয়া ঘোষ এবং কাকলি ঘোষদস্তিদার (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) কেয়া ঘোষ এবং কাকলি ঘোষদস্তিদার (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

সমাজমাধ্যমে ফের কেয়া-কাকলি! তৃণমূলত্যাগী সাংসদ সম্পর্কে তৃণমূলে থেকে যাওয়া এক মহিলা সাংসদের মন্তব্যের প্রতিবাদ করলেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। আর কেয়ার সেই পোস্ট শেয়ার করে লোকসভা থেকে তৃণমূলের সেই মহিলা সাংসদের বহিষ্কৃত হওয়ার স্মৃতি উস্কে দিলেন কাকলি ঘোষদস্তিদার। সাড়ে তিন সপ্তাহ আগের ‘কেমন আছো গো’ সৌজন্যও আর এক বার উঠে এল আলোচনায়।

ঘটনার সূত্রপাত সংসদ ভবন চত্বরে। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সংসদ ভবনে ঢুকছিলেন। সংবাদমাধ্যম তাঁদের ঘিরে ধরে এবং সংসদে হাজির হাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চায়। সমাজমাধ্যমে পোস্ট হওয়া ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে যে, কল্যাণ সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিতে চাইছিলেন না। বারাসতের সাংসদ কাকলি স্পিকারের কাছে যে অভিযোগ কল্যাণের বিরুদ্ধে জানিয়েছেন, সে বিষয়ে কল্যাণ নিজের বক্তব্য জানাতে এসেছেন কি না, জানতে চাওয়া হয়। কল্যাণ বলেন, ‘‘সে বিষয়ে আসিনি।’’ কিন্তু এই প্রশ্নটি শুনে কল্যাণের চেয়েও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠেন মহুয়া। তিনি কিছুটা আগ বাড়িয়েই বলেন যে, ‘‘কল্যাণদার এত খারাপ দিন আসেনি যে, কাকলিদির বিষয়ে কথা বলতে আসতে হবে।’’ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কল্যাণ-মহুয়ার এই কথোপকথনের ভিডিয়োই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন বিজেপি নেত্রী কেয়া।

কেয়ার পোস্টটি মূলত কটাক্ষ সম্বলিত। তিনি লেখেন, ‘‘নীতিহীন, দুর্মুখ মহুয়া মৈত্রকে কেউ দয়া করে বলুন যে, কাকলি ঘোষদস্তিদার এক জন উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন চিকিৎসক। অথবা সম্ভবত ওঁর কাছে এখন আঙুরফল টক।’’ কেয়ার এই পোস্টই শেয়ার করেছেন বারাসতের এনসিপিআই সাংসদ কাকলি। তিনি লিখেছেন, ‘‘জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য বিক্রি করার কারণে তাঁর (মহুয়ার) বহিষ্কৃত হওয়ার ঘটনাও এখনও কেউ ভোলেননি।’’

সমাজমাধ্যমে কেয়া এবং কাকলির মধ্যে এই আদানপ্রদান সম্প্রতিই শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্রমশ বিদ্রোহী হয়ে উঠছিলেন কাকলি। তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি দলের জেলা সভানেত্রী পদ এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। গত ২৭ মে কেয়া সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘‘তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী এবং সুশান্ত ঘোষও তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। দলের পুরোনো সৈনিকেরা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছেন। খুব শীঘ্রই তৃণমূলে শুধু পিসি আর ভাইপো থেকে যাবেন।’’ কেয়ার সেই পোস্টে কাকলি মন্তব্য লেখেন। কেয়ার উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘‘কেমন আছো গো?’’

কাকলি যখন কেয়ার পোস্টে এই মন্তব্য করেছিলেন, তখনও তিনি এনসিপিআই-তে যোগ দেননি। তবু ‘পিসি-ভাইপো’-কে ছেড়ে তিনি চলে যাচ্ছেন বলে ইঙ্গিত দিয়ে কেয়া যে পোস্টটি করেছিলেন, তার বিরোধিতা কাকলি সে দিন করেননি। বরং কেয়ার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের ইঙ্গিত দিতে কুশল জিজ্ঞাসা করেছিলেন। এখন কাকলি এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরোয়া তিনি একেবারেই করছেন না। তাই এ বার শুধু মন্তব্য নয়, বিজেপি নেত্রীর পোস্ট তিনি শেয়ারই করে দিলেন। তৃণমূলের মহুয়া জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য বিক্রি করেছেন বলেও লিখলেন।

Kakali Ghosh Dastidar Mahua Moitra
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy