E-Paper

‘মহা জঙ্গলরাজে’র ভাষ্যেই ভোটের সুর বাঁধবে বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গে দু’দিনের সফরের প্রথম দিন মঙ্গলবার দুর্গাপুরের একটি হোটেলে রাত পর্যন্ত কোর কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন নবীন। আর বুধবার রাঢ় বঙ্গের নেতাদের নিয়ে একটি কর্মী সম্মেলন এবং রানিগঞ্জে আসানসোল সাংগঠনিক জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৮
দুর্গাপুরে দলের কর্মসূচিতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন।

দুর্গাপুরে দলের কর্মসূচিতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। — নিজস্ব চিত্র।

বিহারে ছিল ‘জঙ্গলরাজ’ শেষ করার কৃতিত্ব। রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের মতে, এনডিএ-র নির্বাচনে বাজিমাত করার অন্যতম হাতিয়ার ছিল সেই প্রচার। বিহার জয়ের রাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গ জয়ের লক্ষ্য বেঁধে দেওয়ার সঙ্গেই তুলেছিলেন ‘মহা জঙ্গলরাজে’র অভিযোগ। তার পরে থেকে এই ভাষ্য বিজেপির বিভিন্ন সারির নেতাদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার পরে প্রথম রাজ্য সফরে এসে পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের এই ভাষ্যকেই পোক্ত করে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন নিতিন নবীন।

পশ্চিমবঙ্গে দু’দিনের সফরের প্রথম দিন মঙ্গলবার দুর্গাপুরের একটি হোটেলে রাত পর্যন্ত কোর কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন নবীন। আর বুধবার রাঢ় বঙ্গের নেতাদের নিয়ে একটি কর্মী সম্মেলন এবং রানিগঞ্জে আসানসোল সাংগঠনিক জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কোর কমিটির বৈঠকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিন্হা-সহ সাধারণ সম্পাদকেরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই কেন পশ্চিমবঙ্গ জয় গুরুত্বপূর্ণ, তা স্পষ্ট করেছেন নবীন। বিজেপি সূত্রে খবর, নবীনের বক্তব্য ছিল, তৃণমূল কংগ্রেসের তোষণের রাজনীতির ফলে পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাসের বদল ঘটেছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে এই রাজ্যের মতো পড়শি বিহার, ঝাড়খণ্ডেরও ক্ষতি হচ্ছে। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের অনুপ্রবেশ সমস্যা গোটা দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মাথাব্যথা। তাই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন জরুরি।

বঙ্গের নেতাদের বাঙালি জাতিসত্তা ও অস্মিতার প্রশ্নে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছেন নবীন। শুধু হিন্দু কিংবা মুসলিম নয়, জাতি হিসাবে বাঙালি যে তৃণমূলের রাজত্বে বিপন্ন, তা বিভিন্ন ঘটনা তুলে প্রচারে নামার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে পর পর দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের অভাব, শিল্পের সর্বনাশ, কৃষকদের দুরবস্থা কোনও বিশেষ সম্প্রদায়কে নয়, বরং বাঙালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, এই আখ্যানকে সামনে রেখে প্রচারে জোর দিতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই প্রসঙ্গেই নবীন ‘মহা জঙ্গলরাজে’র বিষয়টি অবতারণা করেছেন। তিনি বলেছেন, এটাই নির্বাচনের কেন্দ্রীয় ভাষ্য, যা কাজে লাগাতে হবে। প্রচারকে এই ভাষ্য-কেন্দ্রিক করতে হবে। দিতে হবে সুশাসনের প্রতিশ্রুতিও।

সূত্রের খবর, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপরে আক্রমণের ঘটনা এবং যে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে নিবিড় প্রচার এবং রাজ্যে এর সম্ভাব্য বিপদের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নবীন। বিজেপি সূত্রের খবর, সর্বভারতীয় সভাপতি বলেছেন, যে কোনও মূল্যে পশ্চিমবঙ্গে জয় চায় বিজেপি। এই মুহূর্তে মানুষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সেই আবহকে নিজেদের ইতিবাচক দিকে কাজে লাগাতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিজেপি সূত্রের খবর, দলের নিচু তলায় সাংগঠনিক ঘাটতির বিষয়টি বৈঠকে উঠেছে। নবীন এর জন্য জনসংযোগের ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। সেই সঙ্গে ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে হারের ময়না তদন্তকে টেবিলে রেখেই এই নির্বাচনের নীল নকশা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, “নিতিন’জি মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরেই বাংলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। প্রথম সফরে রাজ্যে এসে দু’দিন কাটিয়ে গেলেন। বোঝাই যাচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতারা পশ্চিমবঙ্গকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা একটাই বার্তা স্পষ্ট করে দিচ্ছেন, বাংলাকে লড়তে হবে। দেশকে বাঁচাতে হবে।”

সূত্রের খবর, নবীন এ দিনের বৈঠকে মণ্ডল স্তরের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে কী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, কত দূর কাজ এগিয়েছে, সংগঠনের অবস্থা কী, তা জানতে চেয়েছেন। পাশাপাশি, দলের কর্মীদের এলাকার বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শও দিয়েছেন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Nitin Nabin BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy