E-Paper

‘নাম বাদ মানেই বাদ নয় নাগরিকত্ব’

এসআইআর-এর বৈধতা নিয়ে মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী কপিল সিব্বলের যুক্তি, সংবিধানের ৩২৪তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ভোট পরিচালনার ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষমতা শুধুমাত্র কেন্দ্রের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২২
সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভোটার তালিকায় নাম যোগ হওয়া বা নাম বাদ পড়া ভোটার তালিকা সংশোধনেরই অঙ্গ বলে মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকত্ব চলে যায় না।

বিহারে এসআইআর বা ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরু হওয়ার পরেই তার সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে এক গুচ্ছ মামলা হয়। আজ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে তার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘ভোটার তালিকায় নাম যোগ বা বাদ ভোটার তালিকা সংশোধনেরই অঙ্গ।’’ বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘‘ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানেই নিজে নিজে নাগরিকত্ব চলে যাওয়া নয়।’’

সুপ্রিম কোর্টে আজ তৃণমূলের দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েনদের দায়ের করা মামলারও শুনানি ছিল। কিন্তু শুনানি হয়নি। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি হবে। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর ক্ষেত্রে তথ্যগত অসঙ্গতির ভিত্তিতে কাদের নোটিস জারি করা হয়েছে, সেই তালিকা প্রকাশ ও অন্যান্য কিছু নির্দেশ দিয়েছিল। তামিলনাড়ু থেকে দাবি উঠেছে, সে রাজ্যেও পশ্চিমবঙ্গের মতো একই নির্দেশ জারি হোক। এ বিষয়ে আজ সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে চেয়েছে।

এসআইআর-এর বৈধতা নিয়ে মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী কপিল সিব্বলের যুক্তি, সংবিধানের ৩২৪তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ভোট পরিচালনার ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষমতা শুধুমাত্র কেন্দ্রের। সিব্বল প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘আমি ভারতের নাগরিক কি না, তা কে ঠিক করবে? কেন্দ্র। নির্বাচন কমিশন নয়।’’ সিব্বল যুক্তি দেন, কমিশনের ফর্ম-৭-এ কারও নাম ভোটার তালিকায় থাকা নিয়ে আপত্তি জমা পড়লে ইআরও তাঁর নাগরিকত্ব নির্ধারণ করতে পারেন না। বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘‘ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লেই নিজে নিজে নাগরকিত্ব চলে যায় না। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনেও প্রশ্ন রাখা হয়েছে।’’ তা শুনে সিব্বল বলেন, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লে বাস্তবে নাগরিকত্ব চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। সরকারের বিচার-বিবেচনার আগেই। বিহারে বিপুল পরিমাণে বেআইনি অনুপ্রবেশ হয়েছে, এমন কোনও পরিসংখ্যান নেই। তা সত্ত্বেও কোটি কোটি ভোটারের নাগরিকত্ব যাচাই হয়েছে। সিব্বলের প্রশ্ন, ‘‘বিহারের এসআইআর-এ কত জন অনুপ্রবেশকারীর খোঁজ মিলেছে? একজনও নয়।’’ ভোটার তালিকায় সংশোধন হলে নাম যোগ হবে, বাদ পড়বে বলে প্রধান বিচারপতি যুক্তি দেওয়ায় সিব্বল বলেন, প্রতি বছর এমনিতেই ভোটার তালিকা সংশোধন হয়। সার্বিক ভাবে বিশেষ নিবিড় সংশোধন করতে হলে তার পরিসংখ্যান ভিত্তিক জোরালো যুক্তি চাই। সিব্বলের যুক্তি, ‘‘এটা কোনও সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। এই মামলার রায়ের ভিত্তিতে ভারতে গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের পথ ঠিক হবে।’’

মামলাকারী সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মসের হয়ে আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন যুক্তি দেন, বিহারের এসআইআর-এর পর থেকে যাঁরা বহু বার ভোট দিয়েছেন, তাঁদের উপরে ভোটার হিসেবে যোগ্যতা প্রমাণের দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংবিধান বা জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে কোনও সংশোধন না করে সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। অথচ সংবিধান মেনে নির্দেশিকা জারি করা হচ্ছে না। বিধিনিয়ম তৈরি হচ্ছে না।

সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর-এর পক্ষে বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায় মামলা করেছিলেন। তাঁর আইনজীবী যুক্তি দিয়েছেন, আধার পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ তা জাল করা যেতে পারে। বেসরকারি সংস্থাকে আধার তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি বাগচী বলেন, পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রেও বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যে কোনও নথিই জাল হতে পারে। আইন অনুযায়ী আধার পরিচয়ের প্রমাণ।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Supreme Court of India Supreme Court

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy