এ বারের নির্বাচন ‘রাজনৈতিক’ নয়, জিততে হবে ‘জাতীয় স্বার্থে’। রাজ্য বিজেপিকে বৃহস্পতিবার বার্তা দিলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা। দু’দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের প্রথম দিনে একগুচ্ছ সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বিজেপি সভাপতি। জেলা সভাপতি, বিভাগ (কয়েকটি জেলার সমষ্টি) আহ্বায়ক এবং ভিন্রাজ্য থেকে আসা বিজেপি নেতাদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে নড্ডা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে এই বার্তা দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হবে না-হবে না’ সংস্কৃতি থেকে রাজ্য এ বার মুক্তি পেতে চলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিধাননগর সেক্টর ফাইভে নড্ডার বৈঠকে বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, পাঁচ সাধারণ সম্পাদক, দুই সংগঠন সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে জেলা সভাপতি এবং বিভাগ আহ্বায়কদের পরামর্শ দেন নড্ডা। বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যের মোট ৪৩ জন মন্ত্রীকে এ রাজ্যে বিজেপির ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার ভোট ব্যবস্থাপনা সামলানোর দায়িত্ব দেন নড্ডা। সে সবের মাঝেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ‘গুরুত্ব’ বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিজেপি সূত্রের খবর, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গে এ বার বিজেপি-কে জিততেই হবে বলে নড্ডা মন্তব্য করেন। এ বারের নির্বাচন শুধু ‘রাজনৈতিক লড়াই’ নয়, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াই— এমনই বার্তা দেন বিজেপি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে এত দিন শুধু ‘হবে না, হবে না, হবে না’ চলেছে। এ বার থেকে ‘হবে, হবে, হবে’।’’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হবে না’ সংস্কৃতির অবসান ঘটবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। আর বিধানসভা নির্বাচনে জয় ছাড়া অন্য কোনও কিছু না-ভেবে কাজ করার পরামর্শ দেন। পশ্চিমবঙ্গ জিততেই হবে— প্রায় কাজ বেঁধে দেন নড্ডা।
বৈঠকে উপস্থিত বিজেপি নেতৃত্ব। —নিজস্ব চিত্র।
নড্ডা অবশ্য প্রথম নন। সম্প্রতি বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ একটি সাক্ষাৎকারে প্রায় একই রকম মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ আমাদের কাছে রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই নয়। পশ্চিমবঙ্গ আমাদের কাছে সভ্যতা রক্ষার লড়াই। ভারতকে রক্ষা করতে হলে আমাদের পশ্চিমবঙ্গে জিততেই হবে।’’ সন্তোষ আরও বলেছিলেন যে, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ ১৯ বা ২০তম বিজেপিশাসিত রাজ্য হতে চলেছে, বিষয়টি এমন নয়। এক বৃহত্তর জনবিন্যাস সংক্রান্ত সঙ্কটের হাত থেকে ভারতকে রক্ষার লক্ষ্যে আমরা পশ্চিমবঙ্গ জিততে চাই।’’
আরও পড়ুন:
গত ডিসেম্বরের শেষ দু’দিনে পশ্চিমবঙ্গ সফরকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বার্তাও প্রায় একই রকম ছিল। পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থে এবং গোটা দেশের স্বার্থে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় জরুরি বলে শাহ মন্তব্য করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যত দিন থাকবে, তত দিন পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা যাবে না বলে তোপ দেগেছিলেন শাহ। এই মুহূর্তে অবৈধ অনুপ্রবেশকে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হিসাবে ব্যাখ্যা করে শাহ বলেছিলেন যে, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে অনুপ্রবেশ রোখা দরকার। এবং তা রোখা যাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার তৈরি হলে। বৃহস্পতিবার নড্ডাও প্রায় একই সুরে কথা বললেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ জড়িয়ে থাকার বিষয়ে শাহ যা বলে গিয়েছিলেন, নড্ডা সে কথাই আরও স্পষ্ট ভাবে বললেন বৃহস্পতিবার।
সাংগঠনিক বৈঠক সেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নড্ডা যোগ দেন চিকিৎসকদের একটি অনুষ্ঠানে। ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি প্রেক্ষাগৃহে বিজেপি-পন্থী চিকিৎসকেরা সে কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন। রাতে নিউটাউনের একটি হোটেলে রাজ্য বিজেপির কোর গোষ্ঠীর সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছেন। অনেক দিন পরে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষকে আবার কোর গোষ্ঠীর বৈঠকে দেখা গিয়েছে।