E-Paper

গিরিশ পার্ক-কাণ্ডে পুলিশের বিরুদ্ধে কমিশনে বিজেপি, পাল্টা নিশানা তৃণমূলেরও

কমিশন অবশ্য শনিবারই পুরো ঘটনা নিয়ে কলকাতার নগরপালের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল। পরিস্থিতির সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী কেন ব্যবহার করা হয়নি, তা-ও জানতে চেয়েছে কমিশন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ০৮:১৯
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার দিন গিরিশ পার্কে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে ‘হামলা’ ও দু’পক্ষের সংঘর্যের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাল বিজেপি। কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঠিক ভাবে ব্যবহার না-করার কথা বলে কমিশনে চিঠি দিয়েছে তারা। থানায় বিজেপির বিক্ষোভও হয়েছে রবিবার। ঘটনায় ধৃত ৯ জনকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত পুলি‌শি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের কাছে ই-মেল করে বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়ার অভিযোগ, ‘বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েন থাকলেও অশান্তির সময়ে তাঁদের দেখা যায়নি। ঘটনাস্থলে কলকাতা পুলিশ ছিল। অশান্তির বিষয়ে পুলিশের কাছে গোয়েন্দা-তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দূরে রাখা হয়েছিল।’ বিজেপির দাবি, ‘বাহিনী মোতায়েন না-করার জন্য যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’ কমিশন অবশ্য শনিবারই পুরো ঘটনা নিয়ে কলকাতার নগরপালের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল। পরিস্থিতির সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী কেন ব্যবহার করা হয়নি, তা-ও জানতে চেয়েছে কমিশন।

পাল্টা ফের সরব হয়েছে তৃণমূলও। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেছেন, “মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় বাহিনী কি মন্ত্রীর বাড়ি পাহারা দিতে আনা হয়েছে? সেটা যদি করা হত, তখন বলত, বাহিনীকে দিয়ে মন্ত্রীর বাড়ি পাহারা দেওয়াচ্ছে। বিজেপি এক জন মহিলা মন্ত্রীকে আক্রমণ করেছে। বাংলার মানুষ এর জবাব দেবেন।”

অশান্তির ঘটনায় ধৃত লালতাপ্রসাদ জয়সওয়াল, প্রসূন পাত্র, ভিকি বেরা, গোবিন্দ কর্মকার, দীপজিৎ দাস, সানি দে, চরঞ্জিৎ সিংহ, কৃশাণু বসু ও রাজেশকুমার সিংহকে এ দিন কলকাতার সিজেএম আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক অভিযুক্তদের ১৯ মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ধৃতদের জামিনের আর্জি জানিয়ে আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, ভিকি ছাড়া প্রত্যেকেই বিজেপি কর্মী। তাঁদের প্ররোচনা দেওয়া হয়েছিল। জামিনের বিরোধিতা করে পুলিশের উপরে হামলার কথা বিশদে তুলে ধরেছেন সরকারি আইনজীবী। দেয় আদালত। ধৃতদের সমর্থনে আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্লোগানও দিয়েছেন। গ্রেফতারির প্রতিবাদে ডানলপ থেকে মিছিল করে এসে বরানগর থানায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে বিজেপি। প্রসঙ্গত, ধৃতদের তিন জন বরানগরের বাসিন্দা। থানার সামনে কিছু ক্ষণ রাস্তা অবরোধও করেছে বিজেপি। দলীয় সূত্রে খবর, অশান্তিতে জখম দলের উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ-সহ তিন কর্মী এখনও চিকিৎসাধীন।

এরই মধ্যে, মোদীর সভার দিন কলকাতায় ‘বয়কট বিজেপি’ পোস্টার ছেঁড়া ও ভাঙচুরের নানা ভিডিয়োয় (সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার) মালদহ জেলা পরিষদের বিজেপি সদস্য তারাশঙ্কর রায়কে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা পুলিশ মালদহ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরে, রবিবার তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তবে তাঁর খোঁজ মেলেনি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Girish Park BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy