কর্নাটকে বিপুল জয়ের পরে নতুন উদ্যমে বাংলায় রাস্তায় নেমে পড়ছে কংগ্রেস। সংগঠনকে শক্তিশালী করার ডাক দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা খারিজ করে দিচ্ছেন রাজ্যের কংগ্রেস নেতৃত্ব। শাসক দল অবশ্য পাল্টা কটাক্ষ করে দাবি করছে, এ রাজ্যে তৃণমূলই আসল কংগ্রেস।
দক্ষিণ কলকাতা জেলা যুব কংগ্রেসের ডাকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাজরা মোড়ের সভা থেকে বিজেপি ও তৃণমূলকে একযোগেই নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতারা। দলের সাংসদ ও প্রদেশ কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, ‘‘কর্নাটকের ফলাফলে দেশের সর্বত্রই দলের নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত। কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা সাংগঠনিক স্তরে বিপুল পরিশ্রম করেছেন বলেই কর্নাটকে বিজেপিকে পর্যুদস্ত করা গিয়েছে। একই ভাবে এই রাজ্যেও সংগঠনকে শক্তিশালী করে বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে আমাদের সর্বাত্মক লড়াই চালাতে হবে।’’ আর এক বর্ষীয়ান নেতা আব্দুল মান্নান ওই সভায় বলেন, ‘‘কংগ্রেসের সমর্থন ছিল বলেই ২০১১ সালে তৃণমূল নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী হতে পেরেছিলেন। কিন্তু আমাদের শিক্ষা হয়ে গিয়েছে। জেনেশুনে সাপের সঙ্গে আর ঘর করা যায় না!’’ বক্তা ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী, প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি আজ়হার মল্লিক, এআইসিসি সদস্য তুলসী মুখোপাধ্যায়, মিতা চক্রবর্তী প্রমুখও। কংগ্রেসের সভার জন্য বিপুল পুলিশি ঘেরাটোপে গোটা এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছিল। রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ অবশ্য পাল্টা কটাক্ষ করেছেন, ‘‘বাংলায় সিপিএমের এজেন্ট হয়ে যারা বিজেপির দালালি করে, তাদের কথার কোনও মানে নেই। কর্নাটকে কংগ্রেসের ৫০ জন তারকা প্রচারকের তালিকায় এ রাজ্যের কেউ ছিলেন না। তাদের এত লাফানোর কী আছে! বাংলায় তৃণমূলই আসল কংগ্রেস, মানুষ জানেন।’’
কর্নাটকের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং ‘নো ভোট টু মোদী, নো ভোট টু দিদি’র ডাক সামনে রেখে কাল, বৃহস্পতিবার কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছে যুব কংগ্রেস। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যে ‘নো ভোট টু মমতা’র স্লোগান দিয়ে সর্বত্র ঘুরছেন, এই কর্মসূচিতে তার পাল্টা ডাক দেওয়ার চেষ্টাও হবে বলে কংগ্রেস সূত্রের ব্যাখ্যা। বিধান ভবনে ওই দিনই জেলা কংগ্রেস সভাপতি ও কার্যকরী সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে।
বিজেপিকে আটকাতে যেখানে কংগ্রেস শক্তিশালী, সেখানে তাদের সমর্থন করার যে কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, তার প্রেক্ষিতে এ দিনই বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, ‘‘এত দিন রাহুল গান্ধীকে বাদ দিয়ে বলছিলেন বিজেপিকে হারিয়ে দেবেন। কী এমন ঘটে গেল হঠাৎ যে, কংগ্রেসের কথা মনে পড়ল? দল যত দুর্বল হচ্ছে, তত ওঁর বক্তব্য বদল হচ্ছে! তবে এর পরে ওঁর সঙ্গে আর কেউ আসবে না!’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)