নবান্নের সামনে কর্মসূচি নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আবেদন খারিজ করল কলকাতা হাই কোর্ট। মন্দিরতলার পরিবর্তে নবান্নের সামনে অবস্থান করতে চেয়েছিলেন শুভেন্দু। এর আগে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ সেই অনুমতি দেননি। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে যান শুভেন্দু। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চও সেই আবেদন খারিজ করে দিল।
নবান্নের সামনে ধর্না দিতে চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেছিল বিজেপি। অভিযোগ ছিল, পুলিশ তাদের ধর্নার অনুমতি দেয়নি। সে কারণে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। সেই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি ঘোষ। তিনি জানান, প্রত্যেকের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করার অধিকার রয়েছে। নবান্ন উচ্চ স্তরের নিরাপত্তার মধ্যে পড়ে। সেখানে বিজেপিকে কর্মসূচি করতে না-দেওয়া নিয়ে পুলিশ যে যুক্তি দিয়েছে, তার তাৎপর্য রয়েছে। বিকল্প জায়গায় বিজেপিকে কর্মসূচি করার অনুমতি দিয়েছে আদালত। হাই কোর্ট জানায়, দেড় কিলোমিটার দূরে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে ওই কর্মসূচি করা যাবে। সেখানে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ধর্না দেওয়া যাবে।
মন্দিরতলায় কর্মসূচি করার জন্য আরও কিছু শর্ত দেয় হাই কোর্ট। তাদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বিধায়কের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫০ জনের বেশি হবে না। ধর্নার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল বা যানবাহনের গতি কোনও ভাবেই ব্যাহত করা যাবে না। ধর্নায় উসকানিমূলক বক্তব্য বা গালিগালাজমূলক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। কর্মসূচিতে কোনও মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং শব্দদূষণ সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম কঠোর ভাবে মানতে হবে।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু জানান, নবান্নের সামনেই ধর্না দিতে চান তারা। ১৬ জানুয়ারি এই কর্মসূচি করার কথা ছিল বিজেপির। সেই মতো তাঁরা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন। এ বার ডিভিশন বেঞ্চেও খারিজ হল আবেদন।