E-Paper

নিজের চেষ্টায় ‘দুই’, তা হলেই অঙ্কে পাশ

শিক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, উচ্চ মাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় মোট ৪০ নম্বরের মধ্যে ১০ নম্বর কী ভাবে সিলেবাস বহির্ভূত হতে পারে? এই ‘ভুলের’ জন্য যাঁরা দায়ী তাঁদের চিহ্নিত করে কেন পদক্ষেপ করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:২৫

—প্রতীকী চিত্র।

নিজের চেষ্টায় মাত্র দু’নম্বর পেলেই এ বার উচ্চ মাধ্যমিকের চতুর্থ সিমেস্টারে অঙ্কে পাশ করবে পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, চতুর্থ সিমেস্টারের পরীক্ষায় সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্ন আসায় সব পরীক্ষার্থীকেই ১০ নম্বর দেবে বলেছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। তার ফলে কোনও পরীক্ষার্থী নিজের চেষ্টায় আর দু’নম্বর পেলেই মোট ১২ নম্বর পাবে। ৪০ নম্বরের পরীক্ষায় পাশ করতে ১২ নম্বরই প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রেই সব পরীক্ষার্থীকে সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্নের জন্য ঢালাও ১০ নম্বর দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এ ভাবে পাশ করলে যথাযথ মূল্যায়ন হবে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন শিক্ষকদের অনেকে। কেউ কেউ এ ভাবে সবাইকে নম্বর দেওয়াকে কটাক্ষ করেরাজ্য সরকারের ‘ভাতা’ প্রসঙ্গওটেনে এনেছেন।

শিক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, উচ্চ মাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় মোট ৪০ নম্বরের মধ্যে ১০ নম্বর কী ভাবে সিলেবাস বহির্ভূত হতে পারে? এই ‘ভুলের’ জন্য যাঁরা দায়ী তাঁদের চিহ্নিত করে কেন পদক্ষেপ করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। এই প্রসঙ্গেই সংসদের নীরবতাকেও কাঠগড়ায় তুলেছে শিক্ষকদের একাংশ। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়ে প্রশ্ন তৈরি করানোর ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে। পাঠ্যক্রম বহির্ভূত প্রশ্ন ঠেকাতে স্কুলশিক্ষকদের দিয়ে প্রশ্ন করানো উচিত। এই দাবিতে সংসদকে চিঠি দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষকদের অনেকে।

উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘‘কারা প্রশ্ন করছেন, তা খুবই গোপনীয় বিষয়। এ বার প্রশ্ন নিয়ে একটা বিতর্ক তৈরি হওয়ায় জানানো হয়েছে যে অঙ্কের প্রশ্নপত্র কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা করেছেন। তবে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র স্কুলশিক্ষকদের দিয়ে তৈরি করালে গোপনীয়তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।’’

সংসদ-কর্তার এই যুক্তি মানতে নারাজ স্কুলশিক্ষকদের একাংশ। তাদের পাল্টা বক্তব্য, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মানসিকতা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তুলনায় স্কুলশিক্ষকেরা ভাল বোঝেন। সিমেস্টার পদ্ধতিতে কত কম সময়ে পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নিয়েছে, তা স্কুলের শিক্ষকেরাই বুঝতে পারেন। তাই স্কুলশিক্ষকেরা প্রশ্ন করতে তা পাঠ্যক্রমের বাইরে থেকে বা অযথা কঠিন হবে না। মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা অনিমেষ হালদার বলেন, ‘‘স্কুলের প্রশ্ন স্কুলশিক্ষকেরা করলে যদি গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে তা হলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরী‌ক্ষার প্রশ্ন কারা করেন? নিশ্চয়ই স্কুলশিক্ষকেরা করেন না। সেখানে গোপনীয়তা রক্ষা হয় তো?’’ তাঁর হুঁশিয়ারি, পাঠ্যক্রম বহির্ভূত প্রশ্ন করে যাঁরা উচ্চ মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষার মূল্যায়নের বারোটা বাজালেন তাঁদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না-নেওয়া হলে আন্দোলনশুরু হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

HS Exam HS

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy