মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত চার চাকা গাড়িটির নম্বর প্লেট বদল করে দেওয়ার বরাত ঝাড়খণ্ডের এক ব্যবসায়ী মারফত করা হয়েছিল বলে দাবি করছেন সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার এই মামলায় হেফাজতে থাকা এক অভিযুক্তকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছিল সিবিআইয়ের তদন্তকারী দল। অভিযুক্তদের একাধিক দফায় জেরাও করা হয়েছে বলে খবর। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তের বয়ান অনুযায়ী ঝাড়খণ্ডের ব্যবসায়ীরও খোঁজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও, ঝাড়খণ্ড থেকে আর একটি চার চাকার গাড়ি কলকাতায় এসেছিল। সেই গাড়িতে তিন আরোহী ছিলেন। তাঁরা কারা এবং কোথা থেকে এসেছিলেন, খোঁজ চলছে। প্রাথমিক ভাবে সিবিআইয়ের তদন্তকারীদের অনুমান, ঝাড়খণ্ডের ওই ব্যবসায়ীকেই খুনের বরাত দেওয়া হয়েছিল। তিনি বক্সারের বাসিন্দা ভাড়াটে খুনিদের দলকে কাজে লাগিয়েছিলেন।
সূত্রের দাবি, খুনে ব্যবহৃত সাদা রঙের গাড়িটির নম্বর প্লেট বদল করা হয়। হেফাজতে থাকা এক অভিযুক্তকে এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে গাড়ির নম্বর প্লেট বদল করে ভাড়াটে খুনিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বরাত দেওয়া হয়েছিল। সেই বরাত দিয়েছিলেন ঝাড়খণ্ডের এক ব্যবসায়ী। সেই বরাত মতোই ওই অভিযুক্ত খুনের ঘটনার কয়েক দিন আগে গাড়িটি ঝাড়খণ্ড থেকে কলকাতায় নিয়ে আসেন। খুনের দিন নিবেদিতা সেতুর টোল প্লাজ়ার কয়েক কিলোমিটার আগে ওই গাড়ির নম্বর প্লেট বদল করা হয়। তার পরে গাড়িটি বারাসতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। জেরায় ওই অভিযুক্ত দাবি করেছেন যে, টোল প্লাজ়ার থেকে একটু দূরে গিয়ে গাড়িটির আসল নম্বর প্লেট ফেলে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ওই অভিযুক্তকে নিয়ে নম্বর প্লেট বদল এবং আসল নম্বর প্লেট ফেলে দেওয়ার জায়গা পরিদর্শন করেছেন তদন্তকারীরা। তবে আসল নম্বর প্লেট এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেই সূত্রের দাবি।
জেরায় ওই অভিযুক্ত তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, বারাসত ১১ নম্বর গেটের কাছে গাড়ি হাতবদল হয়েছিল। সেখানেই গাড়ি হস্তান্তরের নির্দেশ ঝাড়খণ্ডের ওই ব্যবসায়ী দিয়েছিলেন। নম্বর প্লেট বদলের পরে নিবেদিতা সেতুতে টোল দিয়ে সোজা গাড়ি নিয়ে বারাসতে গিয়ে হস্তান্তর করেছিল। সেখান থেকে বাসে চেপে কলকাতা বিমানবন্দর এলাকায় যায় সে। সেখানে একটি ফাস্ট ফুডের দোকানে খাবার খেয়েছিল। বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে নিয়ে ওই ফাস্ট ফুডের দোকানের কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারীরা। ওই দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে। তাতে অভিযুক্তদের বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া গিয়েছে বলে সিবিআই সূত্রের দাবি। সিবিআই সূত্রের এ-ও দাবি, ফাস্ট ফুডের দোকানে খাবার খাওয়ার পরে একটি ক্যাবে চেপে হাওড়া স্টেশনে যায় ওই অভিযুক্ত। তার পরে ট্রেনে ধরে বিহারের বক্সারে গিয়েছিল সে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)