Advertisement
E-Paper

সিএফ ফি বৃদ্ধির নয়া নিয়মে বছরে দু’বার করাতে হবে গাড়ির স্বাস্থ্য পরীক্ষা! কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ

মোটর ভেহিকল্‌স অ্যাক্ট অনুযায়ী গাড়ির সার্টিফিকেট অফ ফিটনেস (সিএফ)–এর ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি বছরে এক বারের বদলে দু’বার সিএফ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছে বাসমালিক ও পরিবহণ সংগঠনগুলি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৩:৩০
Central Government increases CF fees and new rules to require vehicles to undergo fitness test twice a year

বছরে দুবার করাতে হবে গাড়ির সিএফ, ক্ষোভ বেসরকারি পরিবহণ সংস্থাগুলির । —ফাইল চিত্র।

কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্যের বেসরকারি পরিবহণ মহল। মোটর ভেহিকল্‌স অ্যাক্ট অনুযায়ী গাড়ির সার্টিফিকেট অফ ফিটনেস (সিএফ)–এর ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি বছরে এক বারের বদলে দু’বার সিএফ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছে বাসমালিক ও পরিবহণ সংগঠনগুলি। সংগঠনগুলির দাবি, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত পরিবহণ শিল্প সম্পূর্ণরূপে মুখ থুবড়ে পড়বে।

বর্তমানে বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে বছরে একবার সিএফ করানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু নতুন নিয়মে বছরে দু’বার ফিটনেস সার্টিফিকেট নবীকরণ করাতে হবে। বাসমালিকদের প্রশ্ন, সিএফ ও পলিউশনের কাজ সম্পূর্ণ আলাদা, তা হলে এই দ্বিগুণ চাপ কেন? তাঁদের যুক্তি, সিএফ মানে গাড়ির যান্ত্রিক সুস্থতা, অন্য দিকে দূষণ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পলিউশন টেস্টিং সেন্টারের। দূষণ কমাতে হলে সেই ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা উচিত, গাড়ির উপর বারবার সিএফের বোঝা চাপানো নয়। পরিবহণ মহলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের এই ‘চাপিয়ে দেওয়া’ নীতি শুধু অযৌক্তিক নয়, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পূর্ণ বেমানান। পশ্চিমবঙ্গে ২০১৮ সালের পর থেকে রাজ্যে বাসভাড়া বাড়েনি। একই সময়ে ডিজ়েলের দাম ৯৪ টাকায় পৌঁছেছে, পুলিশি জরিমানা ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০০ টাকা হয়েছে, টোল চার্জ কয়েকগুণ বেড়েছে। তার উপর অটোরিকশা ও টোটোর অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে যাত্রী কমে গিয়েছে— ফলে বাস শিল্প আগেই সঙ্কটে।

এই অবস্থায় সিএফ ফি অতিমাত্রায় বাড়ানো হলে বাসমালিকদের একাংশ সিএফ না করেই গাড়ি তুলে দিতে বাধ্য হবেন বলে আশঙ্কা। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বাস তো আর জলে চলে না, এত বাড়তি ব্যয়ের চাপ আর কোনও ভাবেই আমরা সামলাতে পারব না। তা ছাড়া করোনা সংক্রমণের সময় লকডাউন পরিস্থিতিতে বেসরকারি বাস শিল্প যে ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই ধাক্কা বাসমালিকেরা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এমতাবস্থায় নতুন করে সিএফের বোঝা বেসরকারি পরিবহণ ব্যবসায়ীদের কাছে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো।’’

পরিবহণ সংগঠনগুলি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে তারা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে এবং তার দায় কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রককেই বহন করতে হবে। এ দিকে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ বিবেচনার দাবি তুলেছে সংগঠনগুলি। বিশেষ করে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। বাসমালিকদের আশা, রাজ্য সরকার বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁদের পাশে দাঁড়াবে এবং কেন্দ্রের এই ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য উদ্যোগী হবে।

Fitness Certificate
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy