ভোটার তালিকায় থাকা কারও নাম নিয়ে আপত্তি জানানোর জন্য যে ৭ নম্বর ফর্ম, তা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে যাওয়া নিয়ে সোমবার রাজ্য জুড়ে বিজেপি-তৃণমূল কংগ্রেস ধুন্ধুমার বাধল। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ফর্ম জমা দিতে বাধা, পুলিশের সামনেই মারধর, ফর্ম পোড়ানোর অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, বিজেপি গায়ের জোরে নাম কাটতে চাইছে। দু’পক্ষই অভিযোগ মানেনি।
হুগলির চুঁচুড়ায় তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের নেতৃত্বে দলের বিএলএ-কে মারধর করে ফর্ম ৭ কেড়ে ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছে বিজেপি। অসিতের দাবি, “বিজেপির বিএলএ বহু দূরের লোকজনের নামে ফর্ম ৭ জমা দিচ্ছিলেন।”
আসানসোলে ফর্ম ৭ ভর্তি ফাইল পোড়ানো, গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে জিটি রোড অবরোধ করেছে বিজেপি। দুর্গাপুর, লালবাগ, কল্যাণী, আরামবাগ, বনগাঁ, বসিরহাট, বালুরঘাট, কালিয়াগঞ্জ-সহ নানা জায়গাতেই অশান্তি বেধেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী মহিলাদের হেনস্থা করেছে।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি কর্মীদের ‘ডিজে’ শোনানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ দিনের ঘটনাবলি তারই ফল বলে অভিযোগ বিজেপি সূত্রে। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি, অনুপ্রবেশকারী, ভুয়ো ভোটার থাকলে ভোট করতে দেব না। তৃণমূল এঁদের রাখতে চায় বলে হামলা করছে।” ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার সময় (যা শেষ হয়েছে ১৯ তারিখ) বাড়ানোর দাবি তুলে সিইও-দফতরে গিয়েছিল বিজেপির প্রতিনিধিদল। তৃণমূলের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার পাল্টা বলেছেন, “বিজেপি হাজার হাজার ফর্ম পাচ্ছে কী ভাবে? কেনই বা দলগত ভাবে জমা করছে? কমিশন-বিজেপি আঁতাঁত স্পষ্ট। গায়ের জোরে নাম কাটতে গেলে অশান্তি হবেই।”
শিলিগুড়ি, সন্দেশখালি ২ ব্লকে প্রশাসন ফর্ম ৭ জমা নিতে চায়নি বলে অভিযোগ বিজেপির। দার্জিলিঙের জেলাশাসক মনীশ মিশ্রের বক্তব্য, “কত ফর্ম ৭ জমা পড়েছে, এখনই বলা যাচ্ছে না। অনলাইনেও জমা দেওয়া যায়। অভিযোগ ভিত্তিহীন।” সন্দেশখালি ২-এর বিডিও অরুণ সামন্তের দাবি, “কর্তৃপক্ষ এই ফর্ম জমা নেওয়ার নির্দেশ দেননি।”
এরই মধ্যে বাঁকুড়ায় পুলিশের বাজেয়াপ্ত করা মোবাইল, গাড়ি, ফর্ম ৭ ফেরত চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি। ভুয়ো তথ্য দিয়ে ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার অভিযোগে পূর্ব মেদিনীপুরের এক বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)