পশ্চিমবঙ্গে থমকে থাকা জনগণনা প্রক্রিয়াকে এ বার দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্রিয় হচ্ছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই জনগণনার কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ বার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে চলেছেন তিনি। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী শুক্রবার (২৯ মে) নবান্ন সভাঘরে ওই বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই জনগণনার কাজ সম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের দায়িত্ব বণ্টন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য সরকার। জেলা পর্যায়ে ডিভিশনাল কমিশনার, জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমা শাসক, বিডিও এবং জয়েন্ট বিডিওদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জনগণনার কাজে। একই সঙ্গে শহর বা পুরসভা এলাকায় কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার, পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং সমমর্যাদার আধিকারিকদের জনগণনার দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক চলতি বছর দেশ জুড়ে জনগণনার কাজ শুরু করছে। দেশের একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রক্রিয়া কার্যত স্থগিত হয়েই ছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অভিযোগ করেছিলেন, পূর্ববর্তী সরকার জনগণনা সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্রকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেনি। সেই কারণেই রাজ্যে সেন্সাসের কাজ পিছিয়ে গিয়েছে বলে তাঁর মত।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনার উপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জনগণনা প্রক্রিয়াকেও সেই অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক পরিকল্পনা, উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং সরকারি পরিষেবা বণ্টনের ক্ষেত্রে জনগণনার তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত ও নির্ভুল ভাবে এই কাজ সম্পন্ন করতে চায় সরকার। প্রশাসনিক মহলের মতে, জনগণনার কাজ মূলত তৃণমূল স্তরের সরকারি কর্মচারীদের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। অতীতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর সময় যে ভাবে সরকারি কর্মচারীদের বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও হিসেবে কাজে লাগানো হয়েছিল, এ বারও একই ভাবে বিভিন্ন দফতরের কর্মীদের জনগণনার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই সেই সম্ভাবনা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর।
নবান্নে হতে চলা বৈঠকে জনগণনার প্রস্তুতি, কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।