কর্ণ জোহরের ছবিতে আলিয়া ভট্ট। ডেভিড ধবনের ছবিতে বরুণ ধবন। এই চেনা ছক বলিপাড়ায় নতুন নয়। যেমন একটা সময় কর্ণের ছবিতে নায়িকা হিসাবে কাজলকেও একটানা দেখা গিয়েছে। যেখানে পরিচালকেরা একই শিল্পীদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী, সেখানে ইমতিয়াজ আলি এই ধারার বিপক্ষেই মত দিয়েছিলেন। পরিচালক জানিয়েছিলেন, একই অভিনেতাকে নিয়ে একের পর এক ছবিতে কাজ করতে রাজি নন তিনি।
তবে ইমতিয়াজের সেই নিয়মই ভেঙে দেন রণবীর কপূর এবং দিলজিৎ দোসাঞ্জ। কিন্তু, একই অভিনেতাকে বার বার নিজের ছবিতে নেওয়ার বিপক্ষে কেন ছিলেন ইমতিয়াজ? তাঁর আশঙ্কা ছিল, একই অভিনেতার সঙ্গে কাজ করলে আগের ছবির ‘হ্যাংওভার’ নতুন ছবিতেও থেকে যেতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলেছে তাঁর, এমনটাই জানিয়েছেন পরিচালক।
২০০৫ সালে ‘সোচা না থা’ ছবির মাধ্যমে পরিচালনায় আত্মপ্রকাশের পর ইমতিয়াজ একের পর এক সফল ছবি উপহার দেন। ‘জব উই মেট’, ‘লাভ আজ কাল’, ‘রকস্টার’ এবং ‘হাইওয়ে’-র মতো ছবির মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সেই সময় পর্যন্ত তিনি সচেতন ভাবেই একই অভিনেতাকে পুনরায় কাস্ট করতেন না।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইমতিয়াজ জানান, ‘তামাশা’ ছবির সময় তাঁর সেই ধারণার পরিবর্তন ঘটে। ২০১৫ সালের ওই ছবিতে তিনি আবার রণবীর ও দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে কাজ করেন। যাঁদের সঙ্গে তিনি আগেও কাজ করেছিলেন। পরিচালক বলেন, “আমি ভেবেছিলাম আগের ছবির একটা প্রভাব থেকে যাবে। কিন্তু পরে বুঝলাম, তেমন কিছুই হয় না।”
আরও পড়ুন:
বর্তমানে ইমতিয়াজের নতুন ছবি ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’-তে অভিনয় করছেন দিলজিৎ। এর আগেও তাঁর শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘অমর সিং চমকিলা’-তে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন দিলজিৎ। একই অভিনেতাকে পরপর দুই ছবিতে নেওয়া প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, “আমি আগে গল্প লিখি, তার পর ভাবি কোন অভিনেতা চরিত্রটির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। দিলজিৎ এই চরিত্রের জন্য একেবারে পারফেক্ট।”
প্রসঙ্গত, ‘তামাশা’ মুক্তির সময় বক্সঅফিসে মাঝারি সাফল্য পেলেও পরে তা ‘ভাল’ ছবির মর্যাদা পায়। অন্য দিকে, নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ‘অমর সিং চমকিলা’ সমালোচক ও দর্শক— দু’পক্ষেরই প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইমতিয়াজের আগামী ছবি ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’ একটি দেশভাগভিত্তিক প্রেমের ছবি। ছবিতে দিলজিৎ ছাড়াও অভিনয় করেছেন বেদাঙ্গ রায়না, শর্বরী এবং নাসিরুদ্দিন শাহ। আগামী ১২ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ছবিটি।