কালীঘাটে তাঁর পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে আইনি নোটিস দেওয়া হলে, আইনি পথেই তার মোকাবিলা করবেন বলে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নবান্নে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও জানান, এ ধরনের নোটিসের জন্য তিনি ভীত নন।
মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে সোমবার। এ নিয়ে আইনজীবী তথা সিপিএম সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘‘আমার পরিবারকে নোটিস করলে আমি ভীত নই, সন্ত্রস্ত নই। আমি আমার মতো আইনত লড়ব। যদিও এখন আইনত লড়া খুব কঠিন। এই জায়গাটাতেও বিজেপির হস্তক্ষেপ বেশি হচ্ছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, কোথাও না কোথাও এর বিচার হবে। অন্তত মানুষের আদালতে এর বিচার আমি পাব। আইনের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে।’’
বরাবরই বাহুল্যহীন জীবনযাপনে অভ্যস্ত বলে মমতার পরিচয়। তৃণমূল তাঁকে ‘সততার প্রতীক’ হিসেবেও তুলে ধরে। তাঁর বিরুদ্ধেই ওঠা অভিযোগ নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে তদন্তের করার নির্দেশও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্পষ্ট জানালেন, বেআইনি নির্মাণ বা দখলদারির অভিযোগ সত্যি হলে বিনা বাক্যব্যয়ে বুলডোজার ব্যবহার করে তা ভেঙে দেওয়া হোক। মমতা বলেন, ‘‘আমি আজ ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠকে মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দিলাম। আমার জানা নেই, যদি আপনারা তদন্ত করে দেখেন এই ধরনের কোনও সরকারি জমি আমি নিয়েছি বা কাউকে পাইয়ে দিয়েছি, ইমিডিয়েটলি তদন্ত করে বুলডোজার দিয়ে উড়িয়ে দিন। আমার অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
আরও পড়ুন:
কিছুটা আক্ষেপ এবং বিরক্তির সুরে মমতার বক্তব্য, নোংরামো হয় জানলে তিনি রাজনীতি করার কথাই ভাবতেন না। তবে এসে যখন পড়েছেন, হাল ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রশ্ন নেই। মমতার বলেন, “এই ধরনের নিকৃষ্টতম রাজনীতি হবে জানলে আমি নিজে রাজনীতিতেই আসতাম না। কিন্তু এখন যখন এসে গিয়েছি, মা-মাটি-মানুষের কাজ করতে হবে। আপনারা কি মনে করেন আমি স্বার্থের জন্য রাজনীতি করি? আমি যে চেয়ারটায় বসে থাকি স্বার্থের জন্য? যে দিন মানুষ চাইবে না, আমি থাকব না। আই ডোন্ট কেয়ার।’’ অতীতে তিনি কী ভাবে দিল্লির মন্ত্রিত্ব ছেড়ে এসেছিলেন, সেই কথাও তুলে ধরেন মমতা।