E-Paper

‘কোথায় একুশের সভা বলে দেব’, মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর

বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু এ দিনই ঘোষণা করেছেন, বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে আগামী ১৭ জুলাই থেকে। পরবর্তী সপ্তাহে হবে দফতরভিত্তিক বাজেটের আলোচনা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ০৭:০৭
শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।

তৃণমূল কংগ্রেসের একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি কোথায় হবে! বিধানসভায় সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের পরে সেই অনিশ্চয়তা আরও গভীর হল। অধিবেশনে দু’ভাগে বিভক্ত তৃণমূলের বিভাজন উস্কে দেওয়ার পাশাপাশি ধর্মতলায় তাদের ওই কর্মসূচি নিয়েও ‘খোঁচা’ দিয়েছেন তিনি।

ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে দলের ‘শহিদ তর্পণে’র বার্ষিক কর্মসূচির আয়োজন নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। তার অনুমতি চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে কলকাতা পুলিশকে চিঠি দেওয়ার পরে রবিবারই সভাস্থল দেখে মঞ্চ ইত্যাদির মাপজোক করে এসেছেন তৃণমূলের সাংসদ দোলা সেন, বিধায়ক কুণাল ঘোষ ও দলের দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতি বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তার উল্লেখ করেই এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অনুমতি চেয়ে আবেদন করলেই হয়ে যাবে!’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘ফিতে নিয়ে মাপতে চলে গিয়েছেন! কোথায় করবেন বলে দেব।’’ তাঁর খোঁচা, ‘‘আপনাদের সভায় অনেক লোক হবে। লক্ষ লক্ষ। ব্রিগেডে চলে যান! গিয়েছিলেন তো এক বার!’’

মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের পরেই রাস্তায় যানচলাচলে বাধা দিয়ে মাপজোক করার অভিযোগে দোলা, কুণালদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে পরে কুণাল বলেন, ‘‘ছুটির দিন দুপুরে মঞ্চ বাঁধার জন্য গিয়েছিলাম। রাস্তায় কারও কোনও অসুবিধা হয়নি। মামলা হলে দেখা যাবে।’’

প্রসঙ্গত, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু এ দিনই ঘোষণা করেছেন, বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে আগামী ১৭ জুলাই থেকে। পরবর্তী সপ্তাহে হবে দফতরভিত্তিক বাজেটের আলোচনা। যার অর্থ, দীর্ঘ কাল পরে এ বার ২১শে জুলাইয়ের দিন বিধানসভার অধিবেশন খোলা থাকবে।

‘গুন্ডাদমন’ এবং ওবিসি সংক্রান্ত আইন সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনেও তৃণমূলের আসল-নকল টানাপড়েনে ব্যতিক্রমী বিরোধ সামনে এসেছে বিধানসভার ভিতরে। ওবিসি আইনের সংশোধনী বিলে কক্ষত্যাগ করেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গী তৃণমূল বিধায়কেরা। ওই সময় তাঁদের কয়েক জন-সহ অধিবেশনেই ছিলেন কালীঘাটপন্থী বিধায়কেরা। বিলটির উপরে ভোটাভুটি চান আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী। তাতে প্রত্যাশা মতো জিতেছে সরকার পক্ষ। গুন্ডাদমন বিল নিয়েও চূড়ান্ত ‘হাস্যকর’ পরিস্থিতি তৈরি হয় বিরোধী শিবিরে। বিরোধীদের বক্তা-তালিকায় কালীঘাটপন্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি দাঁড়িয়ে জানান, তাঁদের তরফে বলবেন কুণাল। সে কথা আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঋতব্রতপন্থী বিরোধী পক্ষ তাতে রাজি হয়নি। তখন আসন ছেড়ে তাঁদের কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, ‘‘আমাকে বলা হল, আমার নাম বাদ দেওয়ার জন্য নির্দেশ আছে। কার নির্দেশ, বোঝাই যাচ্ছে।’’ আর পরে গুন্ডাদমন বিলের আলোচনায় বিরোধী শিবিরে এই বেহাল অবস্থাকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এক দল বেরিয়ে যাচ্ছে, আর এক দল জামা ধরে টানছে!’’

ঋতব্রত গোষ্ঠীতে নাম লেখানো কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে কোণঠাসা করতে তারাতলার কারখানা ভেঙে পড়ার ঘটনায় গত কয়েক দিন ধরেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করছেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের নেতারা। সে কথা টেনে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘কেউ (কুণালের প্রতি ইঙ্গিত) বলছেন, বিকেল পাঁচটার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। তা হলে আপনি আমার চেয়ারে আসুন! কেউ বলছেন, শুধু ‘কালী’কে ধরলেই হবে? কলম, দোয়াতকে ধরতে হবে। কলম যদি ফিরহাদ হন, দোয়াত তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সরকার প্রমাণ ছাড়া কিছু করবে না।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Suvendu Adhikari TMC 21st July Rally TMC BJP

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy