উদ্বোধনের পরে দ্বিতীয় বার স্নানযাত্রার অনুষ্ঠান হল দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে। সোমবার সকাল থেকে ভক্ত সমাগম ছিল। ভিড় নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ দিতে হয়। তবে ইসকনের সব পদ থেকে সরানোর পরেও স্নানযাত্রার অনুষ্ঠানের পুরোভাগে রাধারমণ দাসের থাকা নিয়ে চর্চা হচ্ছে।
ইসকনের সহ-সভাপতি হিসেবে দিঘা শ্রী শ্রী জগন্নাথ সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের ট্রাস্ট কমিটির সদস্য হিসেবে রাধারমণকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলাদেশে চিন্ময় মহাপ্রভু গ্রেফতারের পরে প্রতিবাদে সরব হন রাধারমণ। সে পর্বে মমতার আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন তিনি। পরে, দিঘার জগন্নাথ মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া হলে, কার্যত মন্দিরের সর্বময় কর্তা হয়ে ওঠেন রাধারমণ।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে রবিবার ইসকনের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় রাধারমণকে। তিনি নিজে সমাজমাধ্যমে জানান, আর কোনও মঞ্চে ইসকনের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না। সে রকমই নির্দেশ এসেছে। তবে সোমবার স্নানযাত্রার সকালে ‘পাহান্ডি বিজয়ের’ মাধ্যমে গর্ভগৃহ থেকে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ অস্থায়ী মণ্ডপে নিয়ে যাওয়া, দেশের ১০৮টি নদীর জল ঢেলে সেই বিগ্রহ স্নান, প্রথা মেনে গজবেশ ধারণ, জগন্নাথকে ৫৬ ভোগ নিবেদন— সব আচার-অনুষ্ঠান পালনে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন রাধারমণ। তিনিই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, ১৬ জুলাই দিঘায় রথযাত্রার উদ্বোধন করবেন শিশির অধিকারী।
রবিবার রাতে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যান প্রাক্তন সাংসদ তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাবা শিশির। তাঁকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন থেকে মন্দির ঘোরানো, সব দায়িত্ব পালন করেন রাধারমণ। দিঘার মন্দিরের ট্রাস্টের এক সূত্রের ব্যাখ্যা, ইসকনের পদে না থাকলেও, মন্দিরের ট্রাস্টে এখনও রাধারমণ রয়েছেন। তবে যে মন্দির পরিচালনার ভার ইসকনের, সেই প্রতিষ্ঠানের পদে না থেকে রাধারমণ কী ভাবে মন্দিরের পদে রয়েছেন, সে প্রশ্ন উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাধারমণের জবাব, ‘‘জীবনে যখন-যা আসে, সেটাকেই গ্রহণ করতে হয়।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)