কলকাতা-শিলিগুড়ি যাতায়াতের রাস্তায় গত কয়েক দিন ধরে যানজটে নাকাল হচ্ছেন যাত্রীরা। কখনও কখনও কলকাতা বা শিলিগুড়ি পৌঁছতে পাঁচ-ছ’ঘণ্টারও বেশি লেগে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামলাতে ফরাক্কার নতুন সেতুর এক দিক খুলে দেওয়া হয়েছে। তাতেও যানজট পুরো কাটেনি। সূত্রের খবর, নদিয়ার দেবগ্রাম, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা ও ভাবতায় জাতীয় সড়কের উপরে উড়ালপুল তৈরি হচ্ছে। সে সব জায়গায় জাতীয় সড়ক সরু হয়ে যাওয়ায় যানজট হচ্ছে।
ফরাক্কা সেতুর খানাখন্দের জন্যও যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে। তা ছাড়া, ১২ নম্বর জাতীয় সড়কটি চার লেনের। কিন্তু ফরাক্কার পুরনো সেতু দু’লেনের। তাই জাতীয় সড়ক থেকে পুরনো সেতুতে ওঠার মুখ সরু হয়ে যাওয়ায় সেখানে যানবাহন থমকে যাচ্ছে। জাতীয় সড়কের মালদহ ডিভিশনের প্রকল্প আধিকারিক শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘যানজটের কারণে দিন চারেক আগে সাময়িক ভাবে নতুন সেতুর একাংশ খুলে দেওয়া হয়েছে। পুরনো সেতু দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী এবং নতুন সেতুর দু’টি লেন দিয়ে দক্ষিণবঙ্গগামী যানবাহন যাচ্ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘যখনই যানজট দেখা দেবে তখনই সাময়িক ভাবে নতুন সেতুর একাংশ খুলে দেওয়া হবে। তবে নতুন সেতু পুরো চালু হতে সেপ্টেম্বর গড়িয়ে যাবে।’’
একটি বেসরকারি পরিবহণ সংস্থার অন্যতম কর্ণধার সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘‘বরাবরই ফরাক্কায় যানজট থাকে। তবে সপ্তাহখানেক থেকে তা তীব্র আকার নিয়েছে। যার জেরে উত্তরবঙ্গমুখী কিংবা কলকাতামুখী, দু’টি ক্ষেত্রেই ৪-৫ ঘণ্টা করে দেরিতে বাস চলছে।’’ মুর্শিদাবাদ জেলা বাস ব্যবসায়ী সংগঠনের মুখপাত্র শান্তনু সাহা বলেন, ‘‘গরমের ছুটির সময়ে এখন এ রাস্তায় প্রচুর পর্যটক। তাঁদের খুবই ভোগান্তি হচ্ছে।’’
তিতিবিরক্ত যাত্রীরাও। শিলিগুড়ির বাসিন্দা গোপাল সরকার বলেন, ‘‘অফিসের কাজে কলকাতায় গিয়েছিলাম। সোমবার ফিরে অফিসে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুপুরে পৌঁছেছি। ফরাক্কার কাছে প্রায় ৪ ঘণ্টা বাস আটকে ছিল।’’ কলকাতার বাসিন্দা অম্লান বসু বলেন, ‘‘সকাল ১০টায় শিলিগুড়ি পৌঁছনোর কথা ছিল। দুপুর তিনটেয় পৌঁছেছি।’’ মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক আর অর্জুন বলেন, ‘‘আমরা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। তাঁরা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করবেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)